দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় প্রথম বারের মত পালিত হলো সিংগারীগাঁ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী দুই শতাধীক মানুষকে গুলি করে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এবারই প্রথম দিবসটি পালিত হলো।

২৩ মে বুধবার দিবসটি পালনে প্রধান অতিথি হিসেবে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহালোর) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল ঘটনা স্থলে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভটির ফলক উম্মোচন করেন।দিবসটি পালনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল। তিনি বলেন, দিনাজপুর প্রথম পর্যায়ে মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানী বাহিনী পুনরায় দিনাজপুর দখল করে নির্মম নির্যাতন চালায়।

নির্মম নির্যাতনে দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে অবস্থান নেয়। ৭১ সালে আজকের এই দিনে সিংগারীগাঁও গণহত্যার ঘটনা তারই প্রমাণ। ৪৮ বছর পরে হলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে পারছি।

তাই আমরা মনে করি মুক্তিযুদ্ধ আর আওয়ামী লীগের চেতনা একে অপরের পরিপুরক। জিয়াউর রহমান জোর করে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে একটি সম্প্রদায়কে স্বাীকৃতি দিয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্থ করে। যদি জানতো যুদ্ধের পরে একটি সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দেয়া হবে তাহলে কোন হিন্দু-বৌদ্ধ শহীদ হতো না বা তাদের রক্ত ঝড়তো না। কিন্তু বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন এদেশ হবে সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ।

যুদ্ধচলাকালীন সময়ে ৯ মাস ক্যান্টনম্যান্টে থাকা খালেদা জিয়া বলেন, ৩০ লক্ষ নয় দেশে ৩ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রব হানি হয়েছিল। আমরা এ লজ্জা রাখি কোথায় ? তিনি বলেন, স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত এ কথাকে না মেনে বেগম জিয়া তার স্বামী জিয়াউর রহমানের ডাকে সারা না দিয়ে জেনারেল জানজুয়ার পায়ের নিচেই বেহেস্ত খুজে পান। শেষ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান তাকে চট্টগ্রামে ক্যান্টনম্যান্টে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন।

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান ও বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের এক মন্ত্রী বায়তুল মোকাররম মসজিদে শিবিরের সমাবেশে বলেছিলেন, ৭১ এর শিবিরের ভুমিকা সঠিক ছিল। তাহলে আপনারাই বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে কোথায় নামিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। বিএনপি এতেও খান্ত হয়নি। বেগম জিয়া তার মন্ত্রী পরিষদে মুজাহিদকে সমাজকল্যান মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রী বানিয়ে তার মত কুখ্যাত রাজাকারের হাত দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বিতরণ করিয়েছেন।

সভায় তারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম. বিপিএম, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশীদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসিম আহমেদ, সেক্টর কমান্ডার ফরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ কে এম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মাসুদুল হক, বিশিষ্ট সাংবাদিক চিত্ত ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সিভিল সার্জন আব্দুল করিম, তারগাঁ ইউনিয়নের আওযামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল বাছেদ, কাহারোল উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

উল্লেখ, স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মাণের জন্য ৩ শতক জমি দান করেন বালু রাম রায়।

প্রসঙ্গক্রমে আরো উল্লেখ্য যে, দিনাজপুর জেলা কৃষক লীগেন সহ সভাপতি ও কাহারোল উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী গোপেশ চন্দ্র রায় জানান, ১৯৭১ সালের ২২ মে সিংগারীগাঁ , তারাপুর, দেড়গাঁও, পাহাড়পুরসহ বিভিন্ন স্থানের পাঁচ শতাধীক নারী, শিশু ও পুরুষ ভারতে আশ্রয় নেয়ার জন্য বোচাগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদী পার হয়ে চাঁদগাঁও সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন।

এ সময় রাজাকার শফিউদ্দিন মেম্বার খান সেনাদের খবর দিলে খান সেনারা তাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে একটি স্কুলে বন্দি করে রাখে দেন। পরের দিন ২৩ মে খানসেনারা শিশু ও নারীদের ছেড়ে দিয়ে প্রায়দুই শতাধীক কিশোর,তরুণ- যুবক ও পুরুষকে গুলি করে ব্যানট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। লাশ নিয়ে পালিয়ে যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য