ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ধর্মঘটের ১১ দিনেও অচলাবস্থা কাটেনি। শ্রমিক ধর্মঘটের ১১ দিন আজ বুধবার আন্দোলনরত শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী খনি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। অনতি বিলম্বে তাদের দাবী মেনে না নেয়া হরে আরো কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েচেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

এদিকে উদ্ভদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন করতে ৩ সদস্যের উচ্চতর কমিটি গঠন করেছে পেট্রবাংলা। গত মঙ্গলবার সন্ধায় পেট্রবাংলা পরিচালক (প্রসাশন) মোস্তাফা ফিরোজকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদে সাথে আণ্চেনা করে পরিস্থিতি নিরসন করবে বলে জানা গেছে। তবে কবে আলোচনা হবে সেই বিষয়ে কোন কথা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি খনি কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে চিনা শ্রমিকরা দিনে এক শিপ্টে কয়লা উত্তোলন করছে, খনি সুত্রে জানা গেছে চিনা শ্রমিকরা প্রতিদিন এক হাজার টন কয়লা উত্তোলন করছে, অথচ প্রতিদিন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করতে হয় ২ হাজার ৫শ টন থেকে ৩ হাজার টন কয়লা। এতে খনিটির কয়লা ইয়াডের কয়লার মজুদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ বলছেন, সোমবার থেকে চায়না শ্রমিক কয়লা উত্তোলন শুরু করেছে। তারা প্রতিদিন এক হাজার টন কয়লা উত্তোলন করলেও, খনিটির কয়লা ইয়াডে ৩ লাখ টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এই উদ্ভদ্ধ পরিস্থিতির নিরসন হলেই, আবোরো পুরোদমে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে, ফলে তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের কয়লা সংকট হবেনা।

এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন বলেন আন্দোলনরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাজে যোগদান করার জন্য, তিনি টেলিফোন করে আহবান জানিয়েছেন, তিনি বলেন পেট্রবাংলার পরিচালক (প্রসাশন) মোস্তফা ফিরোজকে প্রধান করে যে কমিটি গঠন করেছে, সেই কমিটি আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের দাবী গুলো পুরন করার চেষ্ঠা করবে।

তিনি আরো বলেন আন্দোলনরত শ্রমিকদের সভাপতি রবিউল ইসলাম, তাদের উপদেষ্ঠা ও পার্বতীপুর উপজেলা আওেয়ামীলীগ সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, শ্রমিকদের উপদেষ্ঠা ও আওয়ামীলীগ নেতা আমজাদ হোসেনকে টেলিফোন করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তার আহবানে সাড়া দেয়নি।

এদিকে আন্দোলনরত বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালন আন্দোলনরত শ্রমিকদের আলোচনা না ডেকে কাজে যোগদান করার আহবান জানিয়েছেন, তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের ডেকে তাদের দাবী নিয়ে কথা বল্লেই হয়ে যায়, অথচ তিনি আলোচনায় না বসে কাজে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন , এতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবীকে তিনি অগ্রাহ্য করেছেন।

উল্লেখ্য গত ১৩ মে থেকে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়ন ১৩ দফা ও ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকাবাসী ৬ দফা দাবীতে ধর্মঘট কর্মসুচি পালন করে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য