বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বিরলের জগতপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মাদক বিরোধী অভিযানের সক্রিয়তায় এলাকার মাদকসেবীদের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। সারাদেশে ঘোষণা দিয়ে মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর আগে থেকেই এ তদন্ত কেন্দ্রের এলাকায় পুলিশের মাদক বিরোধী ভূমিকা জোড়ালো থাকায় এবং বিভিন্ন স্থানে বন্দুক যুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহতের সংবাদে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী শূন্য হয়ে পড়েছে। অনেকে জেলহাজতে থাকলেও যারা জেলের বাইরে ছিল তারা সকলে এখন গা ঢাকা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত প্রায় ৩টায় বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ এর নেতৃত্বে পুলিশ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় বিজোড়া ইউপি’র মুরাদপুর সাতভায়াপাড়া নার্সারী সংলগ্ন স্থানে ফরক্কাবাদ ইউপি’র তেঘরা নারায়ণপুর (সরকারপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের পুত্র মোঃ বাবু ওরফে গালকাটা বাবু (৪৮) পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। পুলিশ এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা পুলিশ আতংকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, গত ১০ মার্চ/২০১৭ তারিখে এসআই জিয়াউর রহমান জিয়া জগতপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যোগদানের পর হতে ১১২ টি মাদক, ৫৪ টি চোরাচালানসহ ১৬৬ টি মামলা দায়ের হয়। এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করতে থাকায় কিছুদিনের মধ্যে তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আতংকের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেন।

গত ১৪ জুন/২০১৭ তারিখে উক্ত তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসাবে পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান যোগদানের পর হতে মাদক বিরোধী সমন্বিত অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন হাট-বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে সচেতনাতামূলক আলোচনা করায় একসময়ের মাদকের স্পটখ্যাত পলাশবাড়ী, কালিয়াগঞ্জ, চকের হাট, ধূলাতৈড়, জগতপুর, বোর্ডহাট, টিনপাড়া, শালতলা, বহবলদিঘী, কামদেবপুর, রাণীপুর, ধর্মজৈন, বনগাঁও এখন মাদক বিক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে। উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে যে অভিভাবকরা চরম শংকায় ছিলেন, আজ অনেকটাই তারা শংকাহীন। ইতিপূর্বে দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রকাশ্যে শত শত নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে মাদক সংশ্লিষ্ট অনেকে যাওয়া আসা করতো।

কিন্তু বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ এর দিক নির্দেশনায় তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান এর পরিকল্পনায় এসআই জিয়াউর রহমানের সাহসীকতায় সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স সমূহের সমন্বয়ে সফলভাবে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে এলাকার মাদক ব্যবসার মূলহোতারা হাতে নাতে ধরা পড়তে থাকায় এখন উল্লেখিত মাদকের স্পটগুলিতে নেই কোন অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা।

যেখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির মহোৎসবে মেতে উঠতে চাইছিল মাদক ব্যবসায়ীরা, সেখানে এখন তাদের কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মোজাম্মেল হক, মিজানুর রহমান, আজাহার আলী, আব্দুল মজিদ, সুদেন চন্দ্র, অমূল্য, অতীন, যতীনসহ এলাকাবাসীর অনেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধর্মপুর, রাণীপুকুর ও পলাশবাড়ী ইউপি’র সাধারণ মানুষদের মধ্যেও মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

জগতপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই জিয়াউর রহমান জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী প্রায় ৫০০ আসামীকে আটক করে পর্যায়ক্রমে নিয়মিত মামলা দিয়ে আবার অনেককে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করায় এখন এই এলাকাটি মাদক শূন্য বলা যায় নির্বিঘ্নে।

তদন্ত কেন্দ্রের বিগত ৫ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ২০১৭ খ্রিঃ চুরি মামলা ২টি, চোরাচালান ৫৪ টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১১ টি, মাদক দ্রব্য ১১২ টি ও অন্যান্য ১৩টিসহ মোট মামলা ছিল ১৯২ টি। ২০১৬ খ্রিঃ চুরি মামলা ১টি, খুন ৩টি, চোরাচালান ৩০ টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৮ টি, মাদক ২২ টি ও অন্যান্য ৪১টিসহ মোট মামলা ছিল ১০৫ টি। ২০১৫ খ্রিঃ দস্যুতা মামলা ১টি, সিধেল চুরি ১টি, চুরি ২টি, খুন ১টি, চোরাচালান ২৫ টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৫ টি, মাদক ৪ টি ও অন্যান্য ৬০টিসহ মোট মামলা ছিল ৯৯ টি। ২০১৪ খ্রিঃ চুরি মামলা ৩টি, খুন ১টি, চোরাচালান ৪৬ টি, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ১৪ টি, মাদক ৮ টি ও অন্যান্য ৫২টিসহ মোট মামলা ছিল ১২৪ টি। ২০১৩ খ্রিঃ দস্যুতা মামলা ২টি, চুরি ৪টি,খুন ৪টি, চোরাচালান মামলা ৩৭টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৭ টি, মাদক ৫ টি ও অন্যান্য ৬১টিসহ মোট মামলা ছিল ১২০ টি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য