দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে উপজেলায় বাদিয়ার ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় আজও সংস্কার হয়নি। বাদিয়ার ব্রীজ নদীর ওপর সেতুর বদলে একটি কাঠের সেতু নির্মিত হয়। এতে করে কিছুটা উপকার পায় স্থানীয়রা। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেই সেতুটি এখন মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, কাঠের সেতুটির দুইপাশে ওঠার সময় ও মাঝখানে কাঠের পাটাতন নষ্ট হয়ে গেছে। সে জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে খুঁটিগুলোর গোড়া আলগা হয়ে নড়াচড়া করে কাঠের সেতুটি। রাতের চলাচলের জন্য বেশি ভোগান্তি হচ্ছে মানুষ।

ভূষিরবন্দর শামিম বলেন, কাঠের সেতু কারণে মানুষের খুব উপকার হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের পর সংস্কার না করায় বর্তমানে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলাচলের সময় কাঠের সেতুটি দোলে এবং পুরনো হয়ে যাওয়ায় ভয়ে ভয়ে পার হতে হয়। খুব দ্রুত সেতুটি মেরামত করা প্রয়োজন।

বন্যায় বাদিয়ার ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ১০ মাসেও পূণ:নির্মিত হয়নি। চিরিরবন্দরে উপজেলায় ২০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। ব্রীজ না থাকায় এ্যাম্বুলেন্স রোগী আনা-নেয়া সম্বব হচ্ছে না।

রাত বেশি হলে মানুষের যাতায়াত কমে যায়। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় হাজার হাজার কোমলমতি ছাত্রছাত্রী, শিক্ষার্থীসহ মানুষের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শিশু ও বয়স্কদের পারাপার কষ্টকর বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, বাদিয়ার ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ায় ইঞ্জিন চালিত মোটর সাইকেল, অটোচার্জার, অটোভ্যান, সব ধরণের যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় ব্রীজে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণঘাতি দূর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত কাঠের সেতু দিয়ে গোন্দরগাঁও, শিঙ্গানগর, চৌরাঙ্গীবাজার, বটতলী, কুশলপুর, ফিরিঙ্গি, চরবডাঙ্গী, কালীতলা, রাবারড্রাম, ওকড়াবাড়ী, তেতুঁলিয়া, বৈকন্ঠপুর, ভূষিরবন্দরÑচরবডাঙ্গা গ্রামের মানুষের যাতায়াত। এবং শত শত যানবাহন বাদিয়ার ব্রীজটি চলাচলের ভারি গাড়ি উঠার সাথে সাথে কাঁপতে থাকে ব্রীজটি। এবং ব্রীজের উপর দিয়ে শত শত মানুষ বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মক্তব, কেজি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা পায়ে হেটেঁ চলাচল করে। কিন্তু বাচ্চারা ব্রীজ হতে খালে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

গমিরশাহ্ পাড়া গ্রামের আছির উদ্দিন বলেন, হাট বাজার যেতে আমাদের খুব সমস্যা হয় এবং বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া আসায় অনেক ব্যাঘাত ঘটছে। এলাকাবাসী জানান, বাদিয়ার ব্রীজটি মেরামত করে দিলে তেতুঁলিয়া ইউনিয়নের এবং পার্শ্ববর্তী সাঁইতাড়া ইউনিয়ন মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার দু:খ দুর্দশা দূর হবে।

এ বিষয়ে তেতুঁলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুনিল কুমার সাহা জানান, বাদিয়ার ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: গোলাম রব্বানী, এবং ইঞ্জিনিয়ারকে বিষয়টি অবগত করছি খুব শীঘ্রই মেরামত কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য