আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: এক বেলা খেয়ে আবার কোন দিন না খেয়েও থাকতে হয় অদম্য মেধাবী হাসানকে। তবুও তাকে দমাতে পারেনি। পেটে ক্ষুধা নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় এনেছেন সাফল্য।

বাবা মা দুইজনই দিনমজুর। বোনের বিয়েতে যৌতুক দেওয়ায় তাদের পরিবার ঋণ গ্রস্থ হয়ে পরে। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বাবা মা দুজনই ইটভাটাতে কাজ করতে যান।

তাই নানা বাড়িতে থেকে পড়াশুনা চালান হাসান। নানা গোলাম উদ্দিন ও নানী ছলিমা বেগম ও দিনমজুরী করে সংসার চালান। অন্যনের বাড়িতে কাজ করে যে মুজুরী পান সেটা দিয়ে কোন মতেই সংসার চলে।

এ বছর লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উর্ত্তিন হন। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন হাসান আলী। কিন্তু একমাত্র বাধা দারিদ্রতা।

তাদের বাড়ী লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের উত্তর পাড়া গ্রামের দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম ও হাছিনা বেগমের ছেলে হাসান আলী।

হাসান আলী বলেন, প্রাইভেট পড়ার মত টাকা ছিলনা তাই নিজেই পড়েছি। বাবা মা ইট ভাটায় কাজে যাওয়ার পর থেকে অনেক সময় না খেয়ে স্কুলে আসতে হত। কোন সংস্থা বা কোন ব্যক্তি আমাকে পড়াশুনার জন্য সাহায্য করলে আমি পড়াশুনা চালিয়ে যেতাম। আমার স্বপ্ন আমি চিকিৎসক হতে চাই।

বড়খাতা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জাহিদুল বারী বলেন, হাসান মেধাবী ছাত্র। তার পরিবার অত্যন্ত গরিব। আমি তার সাফল্য কামনা করি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য