ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আল মিসরি অভিযোগ করে বলেছেন, আরব আমিরাতের অনুমতি ছাড়া ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা বন্দর নগরী এডেনে না প্রবেশ করতে পারছেন আর না সেখান থেকে বের হতে পারছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার ক্ষমতা চরমভাবে খর্বিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে ইয়েমেনের দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার বাকি। মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ইয়েমেনে গোপন কারাগার চালানোরও অভিযোগ রয়েছে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা মনে করেন, আরব আমিরাত তাদেরকে দাস হিসেবে গণ্য করে।একসময় হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা করলেও এখন ইয়েমেনের বৈধ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদেশিদের চলে যাওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পিবিএস নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আল মিসরি বলেছেন, ‘আরব আমিরাত আমাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু তাদের অনুমতি ছাড়া আমরা আমাদের বন্দরে যেতে পারি না। এমন কি এডেন বিমানবন্দরে যেতে গেলেও তাদের অনুমতি লাগে। এডেনে ঢুকতে, বের হতে আরব আমিরাতের অনুমতি অপরিহার্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও জেলখানার ওপর আমার কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার কর্তৃত্ব কতটুকু? হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য জোট গঠন করা হয়েছিল। হুথিরা রয়েছে বলেই ইয়েমেনে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, হুথিদের পরাজিত করার পর স্বাধীন দেশের শাসন ক্ষমতা বৈধ সরকারের হাতে দিয়ে দেওয়ার কথা।’

মার্কিন সাংবাদিক মার্সাইয়া বিগস দাবি করেছিলেন, ইয়েমেনে দখলদারিত্ব কায়েম হয়েছে। তার বক্তব্যের সূত্র ধরে আল মিসরি পিবিএসকে বলেছেন, ‘অবস্থা দেখে সেটাই সত্য মনে হচ্ছে। দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই দেওয়ার বাকি। বিভিন্ন বিষয় আমরা যেসব লক্ষণ দেখছি সেসব লক্ষণ ওই বক্তব্যকেই সমর্থন করে। তবে আমরা এখনও আরব আমিরাতের সঙ্গে বোঝাপড়া করে নেওয়ার বিষয়ে ভাবছি এবং আগামী কয়েক মাসের এ বিষয়ে কোন একটি সমাধান সামনে আসবে। জোটভুক্ত দেশগুলো প্রমাণ করুক, তারা আইনত বৈধ সরকারকে সহায়তা করতে এসেছে। আমাদেরকে আমাদের কাজ করতে দিক তারা। অন্যথায় এটাই প্রমাণিত হবে, যা সন্দেহ করা হচ্ছে সেটাই সঠিক। সেক্ষেত্রে আমরা সংবাদ সম্মেলন করব এবং সবাইকে জানিয়ে দেবো।’

আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে গোপন কারাগার চালাবার অভিযোগ রয়েছে। আরব আমিরাত সে অভিযোগ অস্বীকার করে। কিন্তু ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আরব আমিরাতের দাবির বিপরীত। আটক স্বজনদের মুক্তির জন্য চেষ্টা চালানো পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন আল মিসরি। তিনি পরিবারগুলোর পক্ষে আরব আমিরাতের সঙ্গে সমঝোতারও চেষ্টাও চালাচ্ছিলেন। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে আরব আমিরাতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ।

সাংবাদিক বিগস সেসব ইয়েমেনি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন, যাদের স্বজনদের গ্রেফতার করে জেলে রাখা হয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজোটের হাতে আটক একজনের বোন মন্তব্য করেছেন, ‘স্বজনদের খোঁজ নেওয়ার জন্য আমাদের এমন কি জোটের অফিসে পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয় না, তারা কি হুথিদের হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে এসেছে নাকি তারাই আমাদের ধ্বংস করতে চায়? এটা অপরাধ। আমারা মানুষ, পশু নই।’ মিডিল ইস্ট মনিটর লিখেছে, রামি নামের একজন ইয়েমেনিকে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক করে রেখেছে আরব আমিরাত। রামির স্ত্রী হান্নান মোহাম্মেদ আলি হাসান বলেছেন, ‘ইয়েমেনের ওপর ইয়েমন সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এটা আমাদের দেশ কিন্তু জোট আমাদেরকে আমাদের নিজেদের দেশেই দাস হিসেবে গণ্য করে। তার আমাদের দেশ দখল করেছে। তারা একবার আমাদেরকে সাহায্য করেছিল, সে জন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এবার তাদের যেতে হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য