দিনাজপুর সংবাদাতাঃ প্রতি বছরের মতো ঈদুল ফিতরকে পূঁজি করে টেইলার্স মালিক ও গ্রাহক সাধারণকে জিম্মি করে কতিপয় দর্জি শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট পালন করছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দর্জি মালিক ও গ্রাহকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে বৃহস্পতিবার তাদের কাজের পাওনা মজুরি নিয়ে দর্জি শ্রমিকরা দোকান ছেড়ে চলে যায় এবং মালিকদের অবগত না করে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। টেইলার্স মালিকরা নিরূপায় হয়ে তাদের সাথে কয়েক দফা আলোচনায় বসে বিষয়টি সমাধা করার চেষ্টা করলেও কতিপয় শ্রমিক তাদের ব্যক্তি স্বার্থে ধর্মঘট প্রত্যাহার না করে ধর্মঘট অব্যাহত রাখে।

বিষয়টি জরুরিভাবে সমাধাকল্পে টেইলার্স মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক ও লেবার ইন্সপেক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু ধর্মঘটের ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যা সমাধান হয়নি।

দিনাজপুরে পুরুষদের রেডিমেড কাপড় পাওয়া গেলেও নারী শিশুদের কাপড়ের জন্য বরাবরই টেইলার্সের স্মরনাপন্ন হতে হয়, অন্যান্যবারে ন্যায় এবারেও দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতরে দর্জির সেলাই করা কাপড় পরা থেকে বঞ্চিত হবেন।

দিনাজপুর দর্জি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রমিজুল ইসলাম রঞ্জু জানান, রংপুর বিভাগের সব জেলা থেকে আমরা সর্বোচ্চ মজুরি প্রদান করে আসছি। অথচ প্রতি বছর ঈদকে পুঁজি করে কতিপয় দর্জি শ্রমিক অহেতুক মজুুরি বৃদ্ধির দাবিকে সামনে এনে টেইলার্স মালিকদের ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করে এবং দিনাজপুরবাসিকে নতুন সেলাইকরা কাপড় পরা থেকে বঞ্চিত করছে।

প্রকৃত শ্রমিকরা এই ধর্মঘটের মধ্যে থাকতে চায়না কিন্তু কতিপয় শ্রমিকদের রক্তচক্ষুর ভয়ে তারা নিরবে ধর্মঘট থেকে সরে রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা প্যান্ট সেলাই করতে না পেরে সাংবাদিকদের বলেন, মজুরি নিয়ে দর্জি শ্রমিকরা দরকষাকষি যাই করুক না কেন প্রতিবার ঈদের সময় কেন ? প্রতিবার দর্জি শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট করে আমাদের বিপদে ফেলে। এ ব্যাপারে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এদিকে গত ১৯ মে শনিবার টেইলার্স মালিকদের এক সভায় সিদ্ধান্তানুযায়ী আগামী ২২ মে‘র মধ্যে দর্জি শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করলে দিনাজপুরের সকল টেইলার্স দোকান বন্ধ করে দেবে জানিয়েছেন টেইলার্স মালিকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য