কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর মোড়ল মেম্বার পাড়া, পশ্চিম ফলুয়ারচর ও পালেরচর বেশ কয়টি গ্রাম ব্রহ্মপুত্র নদের একটি ছোট খাল দ্বারা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ।

দীর্ঘ ২৫বছর যাবৎ উক্ত গ্রামের মানুষ গুলো জীবনের ঝুকি নিয়ে রৌমারী সদরের সাথে যোগাযোগ করে চলছে। তিনটি গ্রামে বসবাসরত স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষসহ কৃষি ফসল ও মালামাল পরিবহনের জন্য একমাত্র ভরসা ছোট ছোট নৌকা। প্রাণ হানির ভয় নিয়ে কমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যেতে হয়।

এছাড়া ছোট নৌকা দিয়ে সাইকেল, মোটর সাইকেল, ভ্যান গাড়ি, ঢেলা গাড়ীসহ নিত্য প্রযোজনীয় জিনিসপত্র পাড়াপাড় অত্যান্ত কষ্টসাধ্য হয়েছিল। যোগাযোগের বিচ্ছিন্ন বিষয়টি নিয়ে ভাবিয়ে তোলে স্থানীয় ছাত্র ও যুব সমাজকে।

গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাড়ে ৩শ’ ফিট বাঁশের সাঁকো তৈরী করে প্রমাণ করলো, “ দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ”। এ বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ হওয়ায় দীর্ঘ ২৫ বছরের যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দূর্ভোগ কিছুট্যা হলেও পরিত্রাণ পেলো ৩ গ্রামের প্রায় ১০হাজার মানুষ।

ফলুয়ারচর গ্রামের বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কারিগরের একজন যুবক শাহাদ আলী শিতল শিকদার বলেন, বছরে প্রায় ৮মাস খালে বেশি পানি থাকে তখন আমরা নৌকা দিয়ে পাড়াপাড় হই।

বাকী সময় পায়ে হেঁটে খাল পাড়ি দিয়ে আমরা কর্মস্থলে যাই। স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা জীবনে ঝুঁকি নিয়ে এই খালটি পাড়ি দেয়। এই পাড়াপাড়ের কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেছে।

এলাকাবাসীর দাবী অচিরেই যেন তাদের কথা বিবেচনা করে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য