আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ ‘গাইবান্ধায় ৬৫ মাদক স্পট ১২১ জনের নিয়ন্ত্রণে’ শীর্ষক দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব খান মো. সাইদ হোসেন জসিমের উদ্যোগে শনিবার গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠন, ১৪ দলের নেতাকর্মী ও হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ি মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলহাজ্ব খান মো. সাইদ হোসেন জসিমে লিখিত বক্তব্যে উলে¬খ করেন, প্রকাশিত সংবাদে তাঁর সম্পর্কে যে সমস্ত তথ্য পরিবেশিত হয়েছে তা সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ নয়। তিনি দীর্ঘদিন থেকে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী পেশায় থেকে সুনামের সাথে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

এছাড়া তিনি গর্ভমেন্ট এন্ড কন্ট্রাকটর ফোরাম গাইবান্ধার সদস্য সচিব, গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক। তার মেসার্স নুহা ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন কর্মী এবং গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া তিনি হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক, হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত প্রকাশিত সংবাদটি সম্পুর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত। সংবাদটি তার এবং তার পরিবারের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছে।

এব্যাপারে জসিম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে হেয় প্রতিপন্ন করবার অপচেষ্টার উদ্দেশ্যে সংবাদ মাধ্যমকে ব্যবহার করেছে। আর ওই সংবাদটির পরিবেশনকারী সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রে সহায়তা করেছে। তাই কাউকে হেয় প্রতিপন্ন না করে নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক প্রকৃত সঠিক তথ্য নিয়ে যাচাই বাছাই করে একটি তালিকা প্রস্তুত করে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

এব্যাপারে বাধ্য হয়ে আইনী ব্যবস্থা হিসেবে দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ওই সংবাদের প্রতিবেদক মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদানসহ আদালতে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগি সংগঠন, হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ি মালিক সমিতি, গাইবান্ধার বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ি ও ঠিকাদারদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাড. নিরঞ্জন কুমার ঘোষ, সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন, সারওয়ার হোসেন শাহীন, প্রদীপ কুমার বটু, এসকে তাসের আলী, মো. আসিফ সরকার, ভবতোষ সাহা, বেনজির আহমেদ, মাসুদুল হক মাসুদ, মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, জিয়াউর রহমান সুমন, মাহাবুব আলম তালুকদার তনু, সাইফুল ইসলাম হীরু, স্বপন কুমার সরকার, ওয়াহিদ মুরাদ লিমন, জাকির হোসেন মাসুদ, রাসেল আহমেদ, মুশফিকুর রহমান রুমন, আশরাফ সিদ্দিকী সিজার, জিয়াউর রহমান হেনরী, এইচএম নাসিরুলউল্যা চন্দন, সুজন প্রসাদ, টিটো, বাবু, রাতুল, দ্বীপ, বিশাল, সুমন, শনন, জীবন প্রমুখ।

পলাশবাড়ীতে সংবাদ সম্মেলনঃ গাইবান্ধায় ৬৫ মাদক স্পট ১২১ জনের নিয়ন্ত্রণে শীর্ষক গত ১৭ মে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব।

এই সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পলাশবাড়ী প্রস্তাবিত পৌরসভার সম্ভ্যাব্য মেয়র প্রার্থী গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রকাশিত সংবাদে তাঁর সম্পর্কে যে সমস্ত তথ্য পরিবেশিত হয়েছে তা সঠিক ও বস্তনিষ্ঠ নয়।

যা তাকে মর্মাহত করেছে। উপরোক্ত বিষয়ে সঠিক ও নিরপেক্ষতার সাথে অনুসন্ধান না করে তাকে রাজনৈতিক, পেশাগত, ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এই সংবাদটি পত্রিকায় প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। আমার বাবা মরহুম আলহাজ্ব সাকোয়াতজ্জামান প্রধান বাবু একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি এবং সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরে তার ও তার পরিবারের যথেষ্ট সুনাম ও পরিচিতি এবং সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। সেই সাথে তার পরিবারের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বকর প্রধান বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যেই ওই প্রতিবেদনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোবিন্দগঞ্জের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র এ্যাড. শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন ও পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লবকে জড়ানো হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, সহ-সভাপতি এনামুল হক মকবুল, আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস আলী ও ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাকিম সরকার বাবলা প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য