প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এখন আগের থেকে ভালো আছেন। তার হার্টে ৮টি ব্লক ধরা পড়েছে এবং আজ সন্ধ্যায় ইফতারের পর সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১৯ মে, শনিবার দুপুরে প্রিয়.কমকে এ তথ্য জানিয়েছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

এর আগে ১৫ মে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই সংগীতজ্ঞ জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং ৪ দিন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিসিইউতে থাকতে হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ওই দিন বুলবুল জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে যেকোনো সময় বাইপাস সার্জারি করতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। বুলবুলের অসুস্থতার খবর পেলে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানতে শনিবার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সঙ্গে ফোনে আবারও কথা হয়। তিনি জানান, এই মুহূর্তে কিছুটা ভালো আছেন। আজ সন্ধ্যায় ইফতারের পর অপারেশনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অপারেশন কোথায় হচ্ছে জানতে চাইলে এ গুণী সংগীতজ্ঞ বলেন, ‘আমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রিপোর্ট দেখে, ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিবেন কোথায় চিকিৎসা করলে ভালো হয়।’

কথার ফাঁকেই জিজ্ঞেস করা হয় ১৫ মে তার দেওয়া স্ট্যাটাসে একধরনের অভিমানের সুর পাওয়া গেছে, সে অভিমানটা কার ওপর? হেসে বললেন, ‘আমার অন্য কোনো অভিমান নেই, ভাইয়ের বিচার না পাওয়াটা আমার ক্ষোভের জায়গা, অভিমানও বলতে পারো। অথচ আমি তো সরকারের নির্দেশেই ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাকে তাহলে এখন বন্দী থাকতে হবে কেন? অপারেশনের পর তো আবার এখানেই ফিরতে হবে। হার্টটা তো আবার নষ্টই হবে, না?

ফেসবুকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে বুলবুল লিখেন, ‘সরকারের নির্দেশেই ২০১২-তে আমাকে যুদ্ধাপপরাধীর ট্রাইব্যুনালের [আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল] কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসাবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১-এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। আর ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের মধ্যে আমিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে।

কিন্তু এই সাক্ষীর কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই ‘‘মিরাজ’’ হত্যা হয়ে যাবে, এ আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি।’

গৃহবন্দী হয়ে আছেন দাবি করে স্ট্যাটাসে বুলবুল লিখেন, ‘আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়। একটি ঘরে ৬ বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে ৮টা ব্লক ধরা পড়েছে এবং বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না।’

এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং জানান চিকিৎসার জন্য তার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, বন্ধু-বান্ধব বা শিল্পী সমাজের সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তিনি নিজেই চিকিৎসা চালাতে সক্ষম। তবে অপারেশন শুরুর আগে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বাংলাদেশের পতাকা এবং কুরআন শরিফ বুকের মধ্যে রাখতে চান।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭০ দশকের শেষলগ্ন থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সংগীত শিল্পে সক্রিয় রয়েছেন। ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। স্বতন্ত্রভাবে তিনি অসংখ্য গানের অ্যালবামের কাজ এবং চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সকল জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন বুলবুল।

‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের গীতিকার ও সুরকার তিনি। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কার-সহ অন্যান্য অসংখ্য পুরস্কার। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য