ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ধর্মঘটের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও অচল অবস্থা কাটেনি। কর্মকর্তাদের উপর আন্দোলনকারী শ্রমিকদের হামলা ও খনির সদর দপ্তরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেরন করেছেন খনি কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শ্রমিকদের, আন্দোলন প্রত্যাহার করে আগামী ২১মে আলোচনায় বসার আহবান করেছেন খনি কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় খনির অবিসার্স ক্লাব মনমলাইয়ে এই সংবাদ সম্মেরন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কোর মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালন (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক (প্লানিং এন্ড এক্সপ্লোরেশন) এবিএম কামরুজ্জামান, মহাব্যবস্থাপক মাইনিং নুরুজ্জামান চৌধুরী ও কোম্পানী সচিব আবুল কাশেম প্রধানিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিকরা সকলে খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চিনা এক্সএমসি ও সিএমসি কোম্পানীর অধিনে কর্মরত শ্রমিক। তারা বড়পুকুরিয়া কোলমাইনিং কোম্পানী লিঃ (বিসিএমসিএল) এর কোন শ্রমিক নয়। অথচ তারা বিসিএমসিএল এর নিকট দাবী জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে।

এর পরেও তাদের দাবী নিয়ে আলোচনার জন্য কয়েক দিন সময় চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা কোন সময় দেয়নি। এমডি বলেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ পেট্রবাংলার একটি কোম্পানী। বর্তমানে পেট্রবাংলা চেয়ারম্যান রাষ্ট্রিয় কাজে বিদাশে অবস্থান করছে, তিনি বিদাশ থেকে আসলেই আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসবে। এমডি হাবিব উদ্দিন বলেন শ্রমিকরা খনির কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে, ফলে খনির সদর দপ্তরে বসবাসকরা ৩শ বিদাশী ও ২শ দেশি খনি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জিবন যাপন করছে। এবং শ্রমিকদের হামলায আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের আহত স্বজনদের দেখভাল করতে পারছেনা।

এমডি হাবিব উদ্দিন বলেন চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকরা সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন, পুর্বে যে শ্রমিক ইতোপুর্বে ১৪ হাজার টাকা বেতন পেত, সেই শ্রমিক এখন ৩২ হাজার টাকা বেতন পায়, এছাড়া অনান্য সুযোগ সুবিধা সবেই পাচ্ছে। এর পরেও তাদের দাবীর শেষ নাই।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি ) হাবিব উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন পেট্রবাংলা চেয়ারম্যান আবুল মন্সুর আগামী ২১মে সোমবার দেশে ফিরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়েছেন, এই কারনে তিনি (এমডি) আন্দোলনকারী শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করে আগামী ২১মে সোমবার পেট্রবাংলা চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনায় বসার আহবান জানান।

এদিকে আন্দোলনকারী বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবীউল ইসলাম বলেন ইতোপুর্বেও কয়েক দফা আন্দোলন বন্ধ করে পেট্রবাংলা চেয়ারম্যানের সাথে আনেলাচনায় বসা হয়েছে, কয়েক দফা সময় নিয়েছে কিন্তু শ্রমিকের দাবী পুরোন হয়নি। তাই দাবী পুরন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। একই কথা বরেন ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর আহবায় মাশিউর রহমান বুলবুর ও মিজানুর রহমান ।

এই বিষযে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী সার্কেল) রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে, তারা এখন সুধু কর্মবিরতী কর্মসুচি করবে, খনির গোট অবরুদ্ধ করবে না। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে খনিতে যাতায়াত করতে কেউ বাধার সম্মুখি না হয়।

উল্লেখ ১৩ দপা দাবীতে গত ১৩ মে রবিবার সকাল থেকে শ্রমিক ধর্মঘট কর্মসুচি পালন করছে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়ন ও খনির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীরা। আন্দোলনের ৩য দিন ১৫ মে সকালে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে কর্মকর্তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এতে উভায় পক্ষের অন্তত ১৩জন আহত হয়। এই ঘটনার পর থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকে ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে অচল হয়ে পড়ে খনির সাভাবিক কার্য্যক্রম। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনের ৫দিন অতিবাহীত হলেও এখন পর্যন্ত কোন আলোচনা হয়নি, শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে। এতে অচল অবস্থা কাটেনি খনিটিতে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য