ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি’র শ্রমিক-কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীরা ডাকে অনিদিষ্ঠ কালের জন্য শ্রমিক ধর্মঘট আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনে চলায়, অচল হয়ে পড়েছে দেশের এক মাত্র উৎপাদনশীল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি।

গতকাল রবিবার সকাল ৯ টায় খনি কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠি না হওয়ায়, তারা পুর্ব ঘোষিত আল্টিমেটাম মোতাবেক শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করে।

এদিকে শ্রমিক ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার খনিতে তৃতীয় পক্ষের অধিনে কর্মরত ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে, শ্রমিক ধর্মঘটে একত্বতা প্রকাশ করে তারাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। এতেকরে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে খনিটি।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানীর লিঃ (বিসিএমসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালন (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন বলেন, পেট্রবাংলার চেয়ারম্যান দেশের বাহিরে থাকায়, শ্রমিকদের নিকট সময় চাওয়া হয় কিন্তু তারা (শ্রমিকরা) কর্তৃপক্ষের কোন কথা কর্নপাত না করে আন্দোলনে নেমেছে। এর পরেও তারা শ্রমিকদের সাথে একটি সমজোতা বৈঠক করার চেষ্ঠা করছেন বলে জানিয়েছেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলছেন দির্ঘ ৯ মাস থেকে খনি কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হলেও, কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছে ও সমঝোতার কথা বলে তালবাহনা করে সময় পার করছেন।

এখন তাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোনপথ নাই, এই কারনে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। শ্রমিকরা বলছেন তাদের ঘোষিত ১৩ দফা দাবী পুরন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এদিকে শ্রমিক ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে খনি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবে অপৃতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।

বড়পুকুরিয়া শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী আউট সোসিং শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ প্রদান, বকেয়া ৯ মাসের বেতন-ভাতা প্রদান, প্রফিট বোনাস, ফেস বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা প্রদানসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য দির্ঘ ৯ মাস থেকে কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ অনুরোধ করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোন কর্নপাত করেনি।

এই কারনে গতএপ্রিল মাসের ২৬ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের আল্টিমেটাম ঘোষনা করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তাই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবী পুরন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে ঘোষনা দেন।

শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ওয়াজেদ আলী বলেন শ্রমিকরা চুক্তি অনুযায়ী সকল শ্রমিকদের নিয়োগ প্রদান, প্রতি বছর শতকরা ৪০ শতাংশ দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ, সকল শ্রমিকদের ক্ষেত্রে গ্রাচুইটি প্রদানসহ, এলাকার নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন বন্ধ হবে না।

খনির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রামের সম্বনয় কমিটির মিজানুর রহমান বলেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় মানুষ বসবাস করতে পারছেনা, তাদের যাতায়াতের রাস্তা গুলো ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছ্ েএই বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা সত্বেও কোন কর্নপাত করছেনা, এখন আন্দোলনের বিকল্প কোন পথ এলাকাবাসীর নাই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য