দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংবিধান প্রনেতা, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদক (মরনোত্তর) ভূষিত মরহুম এম আব্দুর রহিমের সহ ধর্মিনী, বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি এবং ডাঃ নাদিরা সুলতানা, ডাঃ নাসিমা সুলতানা, নাফিসা সুলতানা এবং নাজিলা সুলতানার মাতা গর্বিত মাতা নাজমা রহিম “স্বপ্নজয়ী মা” সম্মাননা পদকে ভুষিত হলেন। সম্মাননা প্রদান করেন প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ এমপি।

১৩ মে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পঞ্চম তলায় (মাল্টিপারপাস হলরুমে) নাজমা রহিমকে “স্বপ্নজয়ী মা” সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। ১৯৪৭ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী এই মহীয়ষী নারীর সামাজিক কারণে টাঙ্গাইলের ভারতেশ্বরী হোমসের দশম শ্রেণীর ছাত্রী থাকা অবস্থায় মরনত্তোর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট এম আব্দুর রহিমের সাথে বিয়ে হয়। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার ফলে তার নিজের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলেও স্বপ্ন মরে যায়নি।

তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে, নিজে না পারলেও সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। কিন্তু তার এই প্রতিজ্ঞা পূরণের যাত্রা ছিল অত্যন্ত সংগ্রামময় । স্বামী এম আব্দুর রহিমের বঙ্গবন্ধু সাথে রাজনীতিতে সর্বদা সক্রিয় থাকা, মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ, একাধিকবার কারাবরণ ইত্যাদি কারণে মহীয়ষী মা নাজমা রহিমকে সংসার ও সন্তানদের মানুষ করার সমস্ত ভার একাই বহন করতে হয়। নারী হয়ে কৃষি নির্ভর সাংসারিক কাজ-কর্ম পরিচালনা ও সন্তান-সন্তুতি মানুষ করা ছিল অত্যন্ত কষ্টের। কিন্তু তিনি নানা সামাজিক চাপ, সমস্যা ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম করে ছয়জন সন্তানকেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।

তার বড় ছেলে এম ইনায়েতুর রহিম বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন; কনিষ্ট পুত্র ইকবালুর রহিম দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ; কন্যা ডা: নাদিরা সুলতানা জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিভাগের কনসালটেন্ট; কন্যা প্রফেসর ডা: নাসিমা সুলতানা বর্তমানে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক; নাফিসা সুলতানা রংপুর যুব সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান ও সমাজকর্মী এবং নাজিলা সুলতানা একজন সমাজকর্মী।

এভাবেই হাজারো সংগ্রামের মাধ্যমে সমস্ত প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেন। এছাড়াও মমতাময়ী মা নাজমা রহিম। সকল মায়ের সন্তানদের আদর্শবান, শিক্ষিত ও শুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থাপন করেন নাজমা রহিম ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন থেকে প্রতি বছর মেধাবী গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া হচ্ছে নিজ অর্থে উপবৃত্তি।

অত্যন্ত কষ্ট, শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজরে দেখা স্বপ্নকে বাস্তবায়নকারী মহীয়ষী এই মাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয়ভাবে “স্বপ্নজয়ী মা” হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য