আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বিড়াল ছানাটি হঠাৎ মায়ের গরম বুকে উষ্ণতা অনুভব করে। ঠিক বুঝে উঠতে পারে না কী যেন একটা প্রবেশ করছে তার মুখে! হঠাৎ অনুভব করে সেই মোটা বোটের সাহায্যেই ঠোঁটে খাবার চলে এসেছে তার মুখে।

তখনও চোখ ফোটেনি তার। দৃষ্টি হয়নি প্রখর। বিশ্বস্ত চোখের জ্যোতি দিয়ে আপন মাকে চিনে নেওয়ার অবস্থাও তৈরি হয়নি তার। কিন্তু মায়ের বুকের ঠোঁট লাগিয়ে মমতাটুকু চিরনির্ভরতা বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিটি মুহূর্তে।

রোববার(১৩ মে) মা দিবসে চোখে পড়লো লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুকানদিঘী বাজারের এক কোনায় ।

প্রকৃতির অসংকোচ এই চিরন্তন দায়ভারটুকুই মায়ের চিরন্তন ভালোবাসা। নিজের প্রাণপ্রিয় ছানাটির জন্য। যুগের পর যুগ এই শাশ্বত নিয়মেই প্রকৃতির প্রাণী রাজ্যে অগণনভাবে তার মিউ মিউ ডাক ছড়িয়ে রেখেছে।

তার নিজের বিড়াল ছানাকে তার বুকের খাবার খাইয়ে বুকে নিয়ে ঘুম পারাচ্ছেন।

ছোট আকার বিড়ালটি হওয়ায় খুব সহজেই বাজার অথবা বাড়িতে গিয়ে খাবার খেয়ে এসে নিজের বিড়াল ছানাকে দুধ খাওয়াতে সক্ষম।

লালমনিরহাট প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা  ডাঃ আবু হোসেন বলেন, প্রকৃতির পাণী রাজ্যে মা বিড়ালটির কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। আমাদের মায়েদের মতোই মা-প্রাণীদেরও তাদের সন্তানের প্রতি গভীর মমতা ও স্নেহের অধিকারী। নিজের ছানাগুলো বড় না হওয়া পর্যন্ত খাবার সংগ্রহ থেকে শুরু করে পারিপার্শ্বিক শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করা সব তাকেই সামলাতে হয়। যদিও বাবা-বিড়ালটা তার সঙ্গে সঙ্গে থাকে। তবুও মায়ের বিকল্প আর কিছুই নেই।

‘মা’ শব্দটির মধ্যে রয়েছে স্নেহ, মমতা, যন্ত্রণা, ধৈর্য, ত্যাগ, সংগ্রাম, নিঃস্বার্থ, পরম আশ্রয়, নির্ভরতা প্রভৃতি শব্দাবলীর মানবিক সব গুণাবলী। এগুলো নিজের গর্ভধারিণী ‘মা’ ছাড়া আর কারো মধ্যেই পাওয়া যায় না। প্রকৃতির প্রাণীকূলও এর থেকে বিচ্ছিন্ন নয় বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য