ফাইল ফোট

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার প্রায়মারী স্কুলগুলোতে চরম শিক্ষক সংকট চলছে। প্রায় স্কুলেই সহকারী শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা রয়েছে। বিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান,উপজেলায় ইউনিয়ন ও পৌসভাসহ সর্ব মোট ১’শ ১৬টি গেজেট প্রাপ্ত প্রায়মারী স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি প্রায়মারী স্কুলের শিক্ষক গেজেট নেই।

এ সব স্কুলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৪৫টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য ছিল। যা গত মাসে ৩৯টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদে চলতি দায়ীক্ত দেওয়া হয়েছে। ৬টি স্কুলের মামলাসহ কিছু জটিলতা থাকায় প্রধান শিকাষকের পদ আজও শুন্য রয়ে গেছে।

সহকারী শিক্ষকের শুন্য পদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ৩২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য ছিল। নতুন করে ৩৯ জন সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়ীক্ত দিয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়ীক্ত দেওয়ায় এখন ৭১ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার শহরের প্রায়মারী স্কুলগুলোতে কোন শিক্ষক শুন্যতা নেই। কেবল উপজেলার গ্রামের অনেক স্কুলে একাধীক সহকারী শিক্ষকের অভাব রয়েছে । যা গ্রামের অবহেলিত শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার দিক দিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দিনের পর দিন গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক অভাবে পরীক্ষার ভাল ফলাফল থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

আর তাই সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিশ্বতের দিকে তাকিয়ে গ্রামের সচ্ছল অভিভাবকরা স্কুল থেকে বাচ্চাদের সরিয়ে নিয়ে শহরের ভাল স্কুলে ভর্তি করছেন। সেই কারনেই দিনে দিনে শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ছে গ্রামের স্কুলগুলো।

এ সব কারনেই গ্রামের স্কুলে শিক্ষকদের যোগদানে এত অনিহা। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল অভাবে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে অকালেই ঝরে পড়ছে বলে সচেতন মহলের ধারনা।

গ্রামীন জীবনে শিক্ষার আলো বঞ্চিত ও শিক্ষক অবহেলিত শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক সময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার আলো পৌছে দিতে অত্র এলাকার শিক্ষার্থীদের সকল অভিভাবকসহ সর্বস্থরের সচেতন মহল শিক্ষাসংশ্লিষ্ঠ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য