দিনাজপুর সংবাদাতাঃ চিকিৎসকের অভাবে প্রত্যাসিত সেবা না পাওয়ায় রোগীরা হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অন্যত্র। এরপরেও রোগীদের অভিযোগ চিকিৎসা পেলেও ওষুধ দেয়া হয় না। বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়।

অপরদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে রোগীদের ভীড়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান আলী সরকার বকুল।

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও কমপ্লেক্সেটিতে ৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা সেখানে মাত্র ৩ জন। আর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা ডা. মো. আহসান আলী সরকার বকুলকে দাপ্তরিক কাজেই সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়। চিকিৎসা সেবাতে মাত্র দুইজন স্বাস্থ্য সহকারী চিকিৎসক দিয়ে চলছে বহিঃর্বিভাগ ও জরুরী বিভাগ। এসব বিভাগে প্রতিদিন আড়াই শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসে। রোগী নিয়ে হিমসিম খেতে হয় তাদের।

জানা যায়, পুরুষ ওয়ার্ডে হাকিমপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের শরিফ উদ্দিন বুকে ব্যাথা নিয়ে ৭ দিন পূর্বে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সকালে একবার এবং রাতে একবার ছাড়া ডাক্তার ও নার্সদের ডেকেও পাওয়া যায় না।

বড় ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল থেকে তাকে কোন প্রকার ওষুধ দেয়া হয়নি বরং ওষুধ বাহিরের দোকান থেকে কিনতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানায়, সেবিকার ২০ টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৩ জন। এ ছাড়াও ভান্ডার রক্ষক, হিসাব রক্ষক, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), মেডিকেল ল্যাব (ফিজিও), নাসিং সুপার ভাইজার, কার্ডিওগ্রাফার ও কম্পিউটারের একটি করে শূন্য পদ রয়েছে। চিকিৎসক না থাকায় জরুরী বিভাগ ও বহিঃর্বিভাগ-এ স্বাস্থ্য সহকারীরাই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান আলী সরকার বকুল জানান, আমি ছাড়া আর কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় মাত্র দুইজন স্বাস্থ্য সহকারী চিকিৎসক দ্বারা চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। গুরুতর কোন রোগী আসলে আমি তাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। সে ক্ষেত্রে কখনও ২৪ ঘন্টাই দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রতি মাসে কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবগত করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য