সোমালিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব পরিচালিত একটি আদালত একসঙ্গে একাধিক স্বামী রাখার অভিযোগে এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করার পর তাকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে।

শুকরি আবদুল্লাহি ওয়ারসেম নামে ওই নারীর বিরুদ্ধে আগের স্বামীদের সঙ্গে বিচ্ছেদ ছাড়াই ১১ বার বিয়ে করার অভিযোগ আনা হয়।

আদালতের রায়ের পর আল শাবাব জঙ্গিরা শুকরিকে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে, পাথর ছুড়ে তার মৃত্যু কার্যকর করে বলে দক্ষিণ সাবলালে শহরের অধিবাসীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

কঠোর শরিয়া আইন প্রচলনের পক্ষে থাকা আল-শাবাবের দখলে আছে সোমালিয়ার বিশাল একটি অংশ। রাজধানী মোগাদিশুর নিয়ন্ত্রণ রাখা কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাতে প্রায়ই এ জঙ্গিগোষ্ঠী রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের হামলা ও অভিযান চালায়।

ধর্মীয় অনুশাসন লংঘনের জন্যও আল-শাবাব প্রায়ই কঠোর শারীরিক শাস্তি দেয়। সোমালিয়ায় হরহামেশাই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলেও শুকরির ঘটনাকে অস্বাভাবিক বলছেন দেশটিতে বিবিসির এক প্রতিনিধি।

“শুকরি আবদুল্লাহি ও তার নয় স্বামীকে, যার মধ্যে তার বর্তমান স্বামীও আছেন, আদালতে হাজির করা হয়েছিল। প্রত্যেকেই শুকরিকে তাদের স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেন নিম্ন শাবেল অঞ্চলে আল-শাবাবের গভর্নর মোহামেদ আবু উসামা।

ইসলামি শরিয়া আইন পুরুষদের একইসময়ে চার স্ত্রী পর্যন্ত রাখার অনুমতি দিলেও, একইসময়ে নারীর একাধিক স্বামীর অনুমতি দেয় না।

আল-শাবাব পরিচালিত একটি সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, মোগাদিশু থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের সাবলালের আদালতে হাজির করার সময় শুকরি আবদুল্লাহি ‘নিখুঁত’ স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। শুকরি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন বলেও জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য