জাকির হোসেন, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) থেকেঃ ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার আম বাগানগুলোতে এবার প্রচুর আম এসেছে। গাছে গাছে ঝুলছে এখন থোকা থোকা আম। যদিও শিলা বৃষ্টিতে এরই মধ্যে গুটি আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তারপরেও গাছে যে পরিমান আম রয়েছে তা নিয়ে আশাবাদি চাষীরা। আর যদি বড় ধরণের কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে চাষিরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন অভিমত কৃষি বিভাগের।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এরমধ্যে বেশীর ভাগ আ¤্রপালি জাতের। এছাড়াও ফজলী, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ভাদুরী, ক্ষীরসাপাত, আশ্বিণা, গুটি, সূর্যপরী, মলি¬কা ও থাই জাতের আমও রয়েছে।

বানিজ্যিক ভিত্তিতে আম চাষ শুরু হওয়ায় কয়েক বছর ধরে এ উপজেলায় আমের ফলন বেড়েছে। বাগান মালিকরা এবং বাগান লীজ গ্রহিতা আম ব্যবসায়ী গাছে মুকুল আসার আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে বাগানে ঠিক মত পরিচর্যা করায় এবার বাগানগুলোতে ব্যাপক আম এসেছে।

তবে বৈশাখের শুরুতে ঘন ঘন ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে মুকুল ও আমের গুটির বেশ ক্ষয়-ক্ষতি হয়। তার পরেও গাছে বর্তমানে যে পরিমান আম লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে বেশ খুশী চাষিরা। উপজেলার নারায়নুর গ্রামের আম চাষি রাজিউর রহমান রাজু, খাইরুল ইসলাম, বথপালিগাঁওয়ের আবু হামিদ, মিলন হক ও মসলিম উদ্দীন সহ অনেকেই জানান, বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এবার আম গাছে মুকুল বেশি এসেছিল। কিন্তু প্রথম অবস্থায় বৃষ্টি ও ঝড়ো হওয়ার কারণে আমের কলি ঝরে পড়েছে।

তবে গাছে এখন পর্যন্ত যে পরিমান আম আছে যদি আগামীতে কোন দুর্যোগ না আসে তাহলে চাষিরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন। আর কয়েক দিন পরই গাছে ঝুলতে থাকা কাঁচা আমগুলো পাকতে শুরু করবে। মে মাসের শেষ নাগাদ গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, দুধসর, মোহনভোগ সহ বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ভরে যাবে।

পীরগঞ্জ উপজেলা আম বাগান মালিক সমিতির সভাপতি আবু জাহিদ ইবনুল ইকরাম জুয়েল বলেন, এ উপজেলায় আ¤্রপালি আমের বাগানে যে পরিমান ফল এসেছে তাতে বাগান মালিকরা খুশি। তবে আরো খুশি হবে যদি এর দামটা একটু ভাল পাওয়া যায়। কারণ গত বছর এ এলাকার আম চাষীরা ভাল দাম পায়নি। এর জন্য আমাদের আমের বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এলাকায় আম ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনে সরকারী ও বে-সরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, এ অঞ্চলে হেক্টর প্রতি ১৮ থেকে ২০ টন আম উৎপাদন হয়। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকুলে আছে। আম পাকা পর্যন্ত অনুকুলে থাকলে আশা করা হচ্ছে এবার আগের তুলনায় উৎপাদন বাড়বে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য