মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও তারা সমঝোতার সব শর্ত মেনে চলবে। ট্রাম্পের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুয়েতেরেস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে প্রধান পররাষ্ট্র কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে এই অবস্থান জানান।

২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ)যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। বুধবার পূর্বসুরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা আন্তর্জাতিক সমাজের একটি বড় অর্জন যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তা করেছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত এ সমঝোতা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজ থেকে কার্যকরভাবে বিরত রাখতে পেরেছে।

কাজেই ইইউ এটিতে অটল থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন ঘোষণায় তিনি ‘বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন’ বলেও জানান তিনি। ইরানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি বলে আপনারাও আপনাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকুন। আমেরিকা ছাড়া বাকি বিশ্বের সবাই মিলে আমরা এ সমঝোতাকে অক্ষুণ্ন রাখব।

পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে আসার ঘোষণাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ঘোষণা দিয়েছেন, চুক্তি বহাল রাখতে ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে স্বাক্ষরকারী ৫ দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে তার দেশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য