পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে ইরানের ওপর আবারও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা বলেছে, তাদের জন্য এটা ‘দুঃখজনক’। এই খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য পক্ষগুলোকে তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরমাণু কর্মসূচির কথা বলে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে বলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল পশ্চিমাদের। বিষয়টি নিয়ে কয়েক বছরের উত্তেজনার সমাপ্তি ঘটে ২০১৫ সালে এই চুক্তির মাধ্যমে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ইরানের বিপরীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি ছিল।

চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায় ইরান। তবে তারা চুক্তির শর্ত লংঘন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ইসরায়েলের।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে এই চুক্তিতে অবিচল থাকতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। তার কথায় কাজ না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটনে ছুটে যান যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেস টিলারসনও এই চুক্তি টিকিয়ে রাখার পক্ষে ছিলেন বলে খবর দিয়েছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।

বারাক ওবামার আমলে করা ওই চুক্তি ‘ক্ষয়ে ও পঁচে গেছে’ মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে এটা তার জন্য ‘লজ্জাজনক’।

“এটা ভয়াবহ একপাক্ষিক চুক্তি, যা কখনও হওয়া উচিত হয়নি।”

তার দাবি, ওই চুক্তিতে ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ২০২৫ সালের পর তাদের পরমাণু কর্মসূচি বা ইয়েমেন ও সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে তাদের ভূমিকার মতো বিষয়গুলো উঠে আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০১৫ সালে এই চুক্তি হওয়ার পর ইরানের ওপর থেকে যেসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল সেগুলো পুনরায় আরোপ করবেন।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির জন্য সমঝোতায় আগ্রহী তিনি। তবে তার এই ঘোষণাকে অবৈধ আখ্যায়িত করে তেহরান বলেছে, এভাবে চুক্তি থেকে সরে আসা আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি অবমাননা এবং তা অগ্রহণযোগ্য।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করল যে, নিজের অঙ্গীকারের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নেই।”

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য বলেছে, তারা এই চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। ইরানকে শান্ত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিন দেশের নেতারা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক ফেডেরিকা মগহেরিনি বলেছেন, এই চুক্তি রক্ষায় ‘অঙ্গীকারাবদ্ধ’ ইইউ।

তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য ট্রাম্পকে সাধুবাদ জানিয়েছে সৌদি আরব ও ইসরায়েল।ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘বিপর্যয়কর’ একটি চুক্তি থেকে ‘বলিষ্ঠভাবে’ সরে আসার এই সিদ্ধান্তকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ করছেন তিনি।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রেসিডেন্ট।

এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসার গুঞ্জনে মঙ্গলবার তেলের দাম বাড়তে শুরু করে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য