ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ মাতব্বরদের সালিশের কারনে প্রেমিককে বিয়ে করতে না পারায়, গলায় ফাঁশ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে কলেজ ছাত্রী শ্রীমতি কনা রায়।

কলেজ ছাত্রী কনা রায় ফুলবাড়ী উপজেলার পাশবতি নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের দামোদরপুর গ্রামের মংলু চন্দ্র রায়ের মেযে। গত সোমবার সকালে কলেজ ছাত্রী কনা রায় তার নিজ বাড়ীর সোয়ার ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

জানাগেছে গত ৫ এপ্রিল কলেজ ছাত্রী কনা রায়, ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর গোপালপুর গ্রামে তার ভগ্নিপতি দুলার চন্দ্রর বাড়ীতে বেড়াতে আসে এসময়, তার প্রেমিক পার্বতীপুর উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র রায়ের ছেলে মিন্টু চন্দ্র রায় দেখা করতে আসলে গ্রামবাসীরা তাদের আটক করে বিয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করে, কিন্তু প্রেমিক মিন্টু চন্দ্র বিয়েতে রাজি না হওয়ায়, গ্রামবাসীরা থানায খবর দিলে, থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

এই ঘটনার পর গত ৬ এপ্রিল কনা রায় ও প্রেমিক মিন্টু চন্দ্র রায়ের উভায় পক্ষের পরিবারকে সাথে নিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মঞ্জু রায় চৌধুরীসহ কয়েক জন মাতব্বর গভির রাত পর্যন্ত সালিশ বৈঠক করে। সালিশ বৈঠকে এক লাখ টাকার রফাদফা করে প্রেমিক প্রেমিকার বিয়ে না দিয়ে আপোষ রফা করে। এতে করে কলেজ ছাত্রী কনা রায় প্রেমিক মন্টু চন্দ্রকে বিয়ে করতে ব্যার্থ হয়। এই ঘটনার এক দিন পর গত ৭ এপ্রিল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে কলেজ ছাত্রী কনা রায়।

ফুলবাড়ী থানার ওসি শেখ নাসিম হাবিব বলেন গত ৫ এপ্রিল সন্ধায়, বিজিবি ক্যাম্প এলাকার কয়েক জন বাসীন্দা টেলিফোন করে একটি ছেলে-মেয়েকে আটক করার খবর দিলে পুলিশ তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে উভায়ের পরিবারকে খবর দেয়া হয়।

খবর পেয়ে কলেজ ছাত্রী কনা রায়ের পিতা মংলু রায়, কনা রায় এর বড় ভাই শংকর রায়, ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলম ও মিন্টু রায়র এর পিতা, বড়ভাই ও মিন্টু রায়ের এক মামসহ উভায়ের পরিবারের অভিভাবদের নিয়ে মঞ্জু রায় টৌধুরীসহ কয়েক জন মাতব্বর গত ৬ এপ্রিল থানায় এসে আলোচনায বসার কথা বলে।

এসময় তাদের উভায় পরিবারকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয, তারা আলোচনায় বসে ও আলোচনা করে তারা ওই দিন সন্ধায় একটি আপোষ নামা থানায় জমা দিয়ে, উভায়ের সম্মতি ক্রমে আপোষ হয়েছে মর্মে তারা নিজ নিজ অভিভাবক তাদের নিজ নিজ ছেলে মেয়েকে জমিনে নিয়ে যায়।

আলোচনায় উপস্থিত থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মজিদ তালুকদার বলেন তারা ছেলে মেযেকে বিয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করে, কিন্তু মঞ্জু রায় চৌধুরী, মিন্টু রায়ের আত্মীয় সে বিয়েতে রাজি ছিল না, পরে মেয়ে পক্ষকে এক লাখ টাকা দিয়ে রফাদপা করে। একই কথা বলেন ওই সালিশে উপস্থিত থাকা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাচান রুবেল।

সালিশ কারী এলুয়াড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মঞ্জু রায় চৌধুরীর সাথে বিষয়ে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আপোষ রফায় উপস্থিত ছিলেনাম কিন্তু আপোষ নামায সহি কনি নাই। ছেলে পক্ষ আমার নিজেস্ব্য কোন আত্মীয় নয়, আমার প্রতিবেশি কমল চন্দ্রর আত্মীয় সেই কারনে তারা আমাকে নিয়ে গেছে।

এদিকে কনা রায়ের পরিবারের সদস্যরা বলেন ওই সালিশে উপস্থিত থাকা রাজারামপুর ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে জয়নাল আবেদিন বাবু কনা রায়ের বাড়ীতে এসে খরছ হওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

বিভিন্ন পর্য্যায়ে সালিশে উপস্থিত থাকা একধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, নবানগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর গ্রামের মংলু চন্দ্র রায়ের মেয়ে কনা রায় কলেজে লেখা পাড়া করার ফাঁকে পার্বতীপুর উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র রায়ের ছেলে মিন্টু চন্দ্র রায়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই মাঝে কনা রায় গত ৫এপ্রিল তার ভগ্নিপতি ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর গোপালপাড়া গ্রামে দুলাল চন্দ্রর বাড়ীতে বেড়াতে আসে।

কনা রায় ফুলবাড়ীতে ভগ্নিপতির বাড়ীতে বেড়াতে এসেছে এই খবর পেয়ে, কনা রায়ের প্রেমিকা মিন্টু চন্দ্র ওই দিন বিকালে কনা রায়ের সাথে দেখা করতে ফুলবাড়ীতে আসে । কনা রায় ও প্রেমিক মিন্টু চন্দ্র বিকালে রাজারামপুর গ্রামের কাশিয়া ডাঙ্গা নামক স্থানে গল্প করার সময়, কনা রায়ের ভগ্নিপতি দুলাল চন্দ্র তাদেরকে আটক করে, তার বাড়ীতে নিয়ে এসে, স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর রহমানকে খবর দেয়, ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান ও দুলাল চন্দ্র, কলেজ ছাত্রী কনা রায় ও মিন্টু চন্দ্রর বিয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করে। কিন্তু মিন্টু চন্দ্র বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় বাসীন্দারা থানায় খবর দেয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য