দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ৮ মে মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও মিলনায়তনে প্রাক-বাজেট বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রাক-বাজেট বিষয়ক মত বিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ড. মারুফা বেগম। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি কানিজ রহমান। সভার শুরুতে বাজেট বিষয়ক লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সদস্য ও সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সালাহ উদ্দিন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কলেজিয়েট গার্লস্ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুল ইসলাম, সংগীত ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হীতেন্দ্রনাথ রায়, প্রভাষক বদিউজ্জামান বাদল, আর্দশ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. টিটো রিদওয়ান, আর্দশ মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ হাসিনা আকতার বানু, দিনাজপুর সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক আবু সাঈদ, আর্দশ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক মাইজাবিন ও নাজমুন নাহার, রিজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, আমাদের থিয়েটারের সভাপতি ড. মাসুদুল হক, সাধারণ সম্পাদক তারিকুজ্জামান তারেক, নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমার রেজু, রবীন্দ্র সম্মেলন পরিষদের সভাপতি রবিউল আওয়াল খোকা, শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মীর আরা পারভীন, উদ্যোগে নির্বাহী পরিচালক উম্মে সালমা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাহ্বুবা খাতুন, নুরুননাহার, মিনতী ঘোষ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা সানু, অর্থ সম্পাদক রতœা মিত্র, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার, লিগ্যাল এইড সম্পাদক জিন্নুরাইন পারু,আন্দোলন সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রুবি আফরোজ, প্রচার সম্পাদক জেসমিন আরা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহানাজ পারভীন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, জলা ও পাড়া কমিটির সদস্যবৃন্দ।

আলোচকরা বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ব্যতীত উন্নয়নের কোনো শর্ত পূরণ হতে পারে না। যদিও বাংলাদেশ সরকারের জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রনয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু কেবল বাজেট প্রণয়ন নয়, তার সুষ্ঠু বন্টন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের অভ্যন্তরে নারীর জন্য বৈষম্যমুক্ত, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন-নিপীড়নমুক্ত কর্ম-পরিবেশ, পরিবারে সমাজে ও রাষ্ট্রে নারী- পুরুষের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন ঘটানো দরকার। নারী- পুরুষের সমতার নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গিও আলোকে অর্থনীতির মূল স্রোতোধারায় নারীকে কীভাবে যুক্ত করা সম্ভব তা বিবেচনায় নিতে হবে।

উক্ত সভা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলোঃ-
* নারী সাংসদ, স্থানীয় নির্বাচিত নারী সদস্যদের কাজ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসুচির ভিত্তিতে বাজট বরাদ্দ করতে হবে।

* নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য বন্ধকী ছাড়া ঋণের সীমা বাড়ানো এবং প্রথম বছরগুলোতে কর ছুটি দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।

* নারীর গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি কিভাবে দেয়া যায় বাজেটে সেই বিষয়ে কার্যকরি দিক নির্দেশনা থাকতে হবে।

* স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয় বর্ধক প্রশিক্ষণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, তথ্য প্রযুক্তিতে নারীর সমান সুযোগ প্রদান করা।

* উর্পাজন, উত্তরাধিকার, ঋণ, ভূমি ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের ক্ষেত্রে নারীর র্পূণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করা।

* নারী সমাজের আদিবাসী ও চরাঞ্চল,শিক্ষা স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প,স্থানীয় সরকার প্রভৃতি বিভাগে বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে।

* ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একটি তহবিল থাকা দরকার।

* নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বড় বরাদ্দ রাখা দরকার।

* সরকারি বে-সরকারি শিল্প কারখানায় নারী শ্রমিকদের জন্য যাতায়াত সুবিধা তৈরি করা,ভিন্ন টয়লেট ব্যবস্থা রাখার জন্য আইন তৈরী করা প্রয়োজন,বরাদ্দ রাখার প্রয়োজন।

* নারী প্রতিবন্ধিদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা।

* কৃষিজীবী নারীদের কৃষক স্বীকৃতি প্রয়োজন এবং তাদের কৃষি ঋণসহ অন্যান্য কৃষি সুবিধা পাবে এবং খাদ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য