সৈয়দপুরে শিক্ষক স্বামীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শিক্ষিকা স্ত্রী সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গত ২ মে সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউপির খোর্দ্দ বোতলাগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউপির খোর্দ্দ বোতলাগাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী শাহ্-এর ছেলে রকিব উদ্দিন শাহ-এর সাথে স্কুল শিক্ষিকা সামসুন্নাহারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলে আসছিলো।

কিন্তু হঠাৎ করে ওই শিক্ষক স্বামী রকিব উদ্দিন বেপড়োয়া হয়ে ওঠে। যেকোন অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রীর বেতনের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজের একাউন্টে জমা করে। এদিকে স্ত্রীর কাছে জোরপূর্বক ব্ল্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্ড থেকে ৩০ হাজার টাকা তুলে নেন।

এক পর্যায়ে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সন্দেহ দেখা দেয় ফলে নিজের বেতনের টাকা স্ত্রী দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গত ২ মে বেধরক শারীরিক ভাবে নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর আহত করে।

আশপাশের লোকজন পরে আহত অবস্থায় ওই শিক্ষিকাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে ও শিক্ষিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য বিয়ের পূর্ব থেকেই সামসুন্নাহার ও রকিব দু’জনই শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। হাসপাতালে সামসুন্নাহারের ভাই শিক্ষক মশিউর রহমান শাহ্ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের তিন মাসের মাথায় সে (রকিব) আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরে আমি আমার বোনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে বলে এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।

তবে আমার স্বামী মাঝে মধ্যে আমাকে বিয়ের কথা অস্বীকার করে এবং প্রায় আমার প্রতি অত্যাচার নির্যাতন করে থাকে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান, স্ত্রী ও স্বামীর ঝগড়া বিবাদের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য