গর্ভাবস্থায় খাবারের প্রতি অনীহা থাকাটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে, মুখে রুচি আনতে অনেকেই মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করেন, অনেকেই আবার টক। অনেকের রুচিবর্ধক খাবারের তালিকাটা আরও বড়। সেখানে বাদ যায় না কেক-চকলেটও। এখানে মনে রাখা উচিত একজন অন্তঃসত্ত্বার জন্য এসব খাবার হতে পারে বেশ ক্ষতিকর। তবে কী আছে এর সমাধান?

এ সমস্যার সমাধান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ লাইনের এক প্রতিবেদনে। সেখানে গর্ভাবস্থায় মুখে রুচি আনতে কিছু ফলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো মাতৃত্বপূর্ব এ সময়ের জন্য বেশ উপকারিও।

কমলা : কমলা শরীরে পানির ঘাটতি দূর করে। এছাড়া ভিটামিন বি ও সি এর অভাব দূর হয় নিয়মিত কমলা খেলে। কমলায় উপস্থিত ভিটামিন বি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সমস্যার সমাধান করে। অন্যদিকে ভিটামিন সি তে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেশি ক্ষয় রোধ করে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় নিয়মিত কমলা খাওয়াতে শিশুর শরীরে আয়রন শোষিত হয়।

আম : ভিটামিন সি এর অন্যতম উৎস হচ্ছে আম। প্রতিদিন এক কাপ পরিমাণ আম শরীরে ১০০ ভাগ ভিটামিন সি’র যোগান দেয়। এ ছাড়া আমে ভিটামিন এ উপস্থিত, যা গর্ভাবস্থায় ডায়রিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো উচ্চ ঝুঁকি রোধ করে।

অ্যাভোকাডো : অন্যান্য ফলের তুলনায় অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এতে ভিটামিন সি, বি, কে , ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও জৈব পদার্থ উপস্থিত। তাই নিয়মিত অ্যাভোকাডো খেলে, গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব কমে যায়। এতে পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতির কারণে গর্ভকালীন পা ব্যথাও কমে যায়। এ ছাড়া শিশুর মানসিক ও স্নায়ু বিকাশের জন্য জৈব পদার্থ ক্লোলিন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

লেবু : গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব দূর করতে অনেকেই লেবুর শরবত ডায়েট চার্টে রাখেন। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি উপস্থিত। নিয়মিত লেবু খাওয়াতে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা করে যায়। এ ছাড়া লেবু চুষে খাওয়াতে দাঁত মজবুত হয়।

কলা : কলাতে প্রচুর পরিমানে পটাসিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি ও ফাইবার উপস্থিত। গর্ভাবস্থায় প্রায় অর্ধেকের বেশি নারী কোষ্ঠকাঠিন্য জাতীয় সমস্যায় ভুগে থাকেন। আর গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণগুলোর মধ্যে- অন্ত্রের উপর গর্ভাশয়ে চাপ, চিন্তা, উদ্বেগ, নিম্ন ফাইবার জাতীয় খাদ্য গ্রহণ অন্যতম। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত কলা খেতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ভিটামিন-৬ গ্রহণে বমি বমি ভাব কমে যায়।

জাম : জামে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ভিটামিন সি, ফাইবার, ফলিক অ্যাসিডসহ অন্যান্য জৈব পদার্থ উপস্থিত। গর্ভাবস্থায় শরীরে প্রচুর পরিমাণে শর্করা প্রয়োজন। কেন না এতে প্রচুর পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায়।

আপেল : আপেলে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি উপস্থিত। গর্ভাবস্থায় আপেল খেলে শিশুর স্বাস্থ্যে উন্নতি দেখা যায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থা থাকাকালীন নিয়মিত আপেল খাওয়াতে, নবজাতকের হাঁপানি ও এলার্জির ঝুঁকিও কম থাকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য