দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তজিউ রাস মেলা যাত্রা প্যান্ডেলে জঙ্গীদের বোমা বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জগঠন সম্পন্ন। বিচারক আগামী ৭ জুলাই ৩ সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য হাজির করতে সমনজারীর আদেশ প্রদান করেন।

দিনাজপুর পুলিশ কোর্ট পরিদর্শক মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, আজ সোমবার এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমদের আদালতে দিন ধার্য ছিল। মামলার গ্রেফতারকৃত ৫ শীষ জঙ্গী শরিফুল ইসলাম ডেনিস ওরফে জিৎ (২৮), মোসাব্বিরুল আলম খন্দকার (২৫), সারওয়ার হোসেন বাবু (৩০) ও আব্দুর রহমান (৩২) ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে সুজন ওরফে রাজিব গান্ধী (৩০)কে কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালতে হাজির করা হয়।

বিচারক এই মামলার পালিয়ে থাকা ৩ আসামীর বিরুদ্ধে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য পরিচালনা করছেন। আজ সোমবার ৩ আসামীর অনুপস্থিতিতেই বিচারক আটক ৫ নব্য জেএমবিরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ৭ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য এজাহারকারীসহ ৩ জনকে হাজির করতে সমন জারীর আদেশ প্রদান করেছেন। বিকেলে আটক ৫ জেএমবি সদস্যকে পুনরায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

পালিয়ে থাকা জেএমবি ৩ সদস্য হলেন বগুড়া শাহজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী মোল্লার পুত্র রাজিবুল ইসলাম ওরফে বাধন ওরফে বাদল (২৫), চাপাইনবাবগঞ্জ নাচোল উপজেলার সদরপুর গ্রামের এনামুল হকের পুত্র আব্দুল খালেক ওরফে খালিদ ওরফে মামা (২৮) ও চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র জাকির হোসেন (৩০)।

দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাহেরুল ইসলাম জানান, এই মামলা তদন্তকালে ৪ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে পালিয়ে থাকা ৪ জেএমবি সদস্যের মধ্যে নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, ওরফে সুজন ওরফে রাজিব গান্ধী ঢাকায় গ্রেফতার হলে তাকে এই মামলায় পুনঃ গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। অপর পালিয়ে থাকা ৩ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারক গ্রেফতারী ও ক্রোকী পরোয়ানার জারী বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতে কাহারোল উপজেলার কান্তজিউ রাস মেলায় যাত্রা প্যান্ডেলে জেএমবি সদস্যরা অতর্কিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ করলে ৬ দর্শক গুরুতর আহত হয়।

আহতদের উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়াও প্যান্ডেলের প্রায় ২০/২৫ জন আহত দর্শক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। এই ঘটনার পর যাত্রা প্রদর্শন দেশব্যাপী বন্ধ হয়ে যায়।

এই ঘটনায় মেলার ইজারাদার হারেজ আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীদের আসামী করে কাহারোল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করলে বিচার কাজ শুরু হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য