কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের ছোঁড়া রাবার বুলেটের স্প্রিন্টের আঘাতে গুরুতর আহত স্কুলছাত্র রাসেল মিয়া (১৪) ডান চোখটি অন্ধ হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

সে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত তিনদিন থেকে কাতরাচ্ছেন রাসেল । আহত রাসেল উপজেলার নাওডাঙ্গার সীমান্তবর্তী বালাটারী গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হানিফের ছেলে ও বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

সে গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার কৃষ্ণনন্দবকসি সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বারমাসিয়া নদীর তীরে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় ৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নারায়নগঞ্জ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যের রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হন স্কুলছাত্র রাসেল মিয়া। পরে আহত রাসেলকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ওইদিন রংপুরের বে-সরকারী প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

ওই হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.শামিমা নাজমা মল্লিকার অধীনে চলে। তার পরামর্শে গত ৪ মে তাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হয় । বর্তমানে ওই হাসপাতালের ২৩৬ নং রুমের ৯ নং বেডে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রাইম মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.শামিমা নাজমা মল্লিকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্কুলছাত্র রাসেল মিয়ার দুই চোখ আমরা ভাল ভাবে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে দেখেছি। তার দু’চোখেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে ডান চোখে আঘাতের পরিমাণ বড় এবং ভিতরে অনেক রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। তার দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করার সময় সে ডান চোখে আলো দেখতে পারছে না বলে জানিয়েছেন। ডান চোখে দৃষ্টি ফেরানোর আশংকা রয়েছে।

ঢাকা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোশারফ হোসেনের তত্বাবধানে রয়েছে রাসেল। এদিকে ওই হাসপাতালে দুই দিন ধরে ড.দীপক চন্দ্র নাথের দেখা না পেয়ে রোগীর স্বজনরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান রাসেলের বড় ভাই রুবেল।

স্কুল ছাত্র রাসেল মিয়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার ও পরে ব্যাটালিয়ান কমান্ডার পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্টিত হয়। বৈঠকে বিজিবি এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায়। দু’বারই বিএসএফ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বলে জানান বিজিবি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য