নয় বছর পর অনুষ্ঠিত লেবাননের নির্বাচনে হিজবুল্লাহ সমর্থকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী দেশটির প্রধানমন্ত্রী সুন্নি দলগুলোর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সুন্নি দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট সাদ হারিরির রাজনৈতিক দল ফিউচার মুভমেন্ট। হারিরি বলছেন, হিজবুল্লাহ সঙ্গে থাকা চলমান বিরোধ আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের চেষ্টা করবেন তিনি।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্ররা ১২৮ আসনের সংসদের ৬৭টিতে জয়ী হতে পারে। তবে গত বছরের নভেম্বরে সৌদি আরবে গিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির দল সুন্নি দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপে পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারে সব দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। তবে মন্ত্রিত্ব বণ্টনের আলোচনা আরও পরে হবে। দেশটির অনন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী শীর্ষ তিন পদ প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে।

এ বছরের এপ্রিলে লেবাননের পুনর্গঠন নিয়ে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী দেশটিকে অভ্যন্তরীণ ঋণ ঘাটতি নিরসনের তাগাদা দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কয়েক বিলিয়ন অর্থ ছাড়ের।

ওই সম্মেলনের পর অনুষ্ঠিত হওয়া রবিবারের নির্বাচন এক নতুন আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ ও ভোট ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হয়।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হিজবুল্লাহবিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায় সাদ হারিরির দল। সৌদি আরব সমর্থিত হারির অবশ্য এবারে নির্বাচনের আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন হিজবুল্লাহর সঙ্গে বিরোধ আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য