দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলা কারাগারের রেইনবো সুপার মার্কেটের দোকান ঘর ইজারা/লীজ/ভাড়া কমানোর দাবিতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এর মাধ্যমে আইজি বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে দোকান মালিক সমিতি।

৬ মে রবিবার সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উক্ত স্বারকলিপি প্রদান করেন চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে রেইনো সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান ভুট্টো, সাধারণ সম্পাদক রুবেল ইসলামসহ সকল দোকান মালিক।

স্বারকলিপিতে দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেছেন যে, দিনাজপুর জেলা কারাগারের পুর্বাংশ ও দক্ষিনাংশের রাস্তা সংলগ্ন ফাকা স্থানে কারা কর্মচারী পরিবার নিরাপত্তার আওতায় রেইনবো সুপার মার্কেটর নির্মান করা হয়।

মার্কেট নির্মাণের সময় বলা হয়, দোকান ঘর নাম মাত্র ভাড়ায় আমাদেরকে স্থায়ীভাবে লীজ দেয়া হবে কিন্তু মার্কেটের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বেই আমাদের নিকট হতে ৪২ হাজার থেকে ৮৪ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নেয়া হয়।

সেই টাকা দিয়ে মার্কেট নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়। এছাড়াও পরবর্তীতে দোকান ঘর ইজারা লীজ পত্রে চুক্তির ভাড়ার পরিমাণ অত্যন্ত বেশি ও শর্তাবলী অস্পষ্ট ও অগ্রহনযোগ্য বলে স্বারকলিপিতে উল্লেখ করেছে ব্যবসায়ীবৃন্দ।

স্বারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কেট নির্মাণের পূর্বে এক সমন্বয় সভায় দিনাজপুর জেল সুপার বলেছিলেন, মার্কেটের দোকান ঘর ভাড়া হবে ৫’শ হতে ১ হাজার টাকার মধ্যে কিন্তু ইজারা/লীজ পত্রে দোকান ভাড়া সাড়ে ৩ হাজার হতে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। যা দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষে।

দোকান ঘর নির্মাণের সময় ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছিল যে, দোকান ভাড়ার চুক্তি ৫ বছর মেয়াদি হবে। সেইসাথে প্রতি ৫ বছর পর পর দোকান ভাড়া শতকরা ১৫ ভাগ করে ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ইজারা/লীজ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি বছর দোকান ভাড়া শতকরা ১৫ ভাগ হারে ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অমানবিক অন্যায় বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষে উক্ত শর্তসাপেক্ষে বর্ধিত ভাড়া প্রদান করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এছাড়াও ইজারা/লীজ পত্রে মেয়াদ দেখানো হয়েছে ৩ বছর কিন্তু জামানতের টাকার বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করা হয় নাই।

মার্কেটের বিদ্যুত বিল যৌথভাবে পরিশোধের কথা বলা হলেও পৃথকভাবে নিজ দোকান ঘরে বিদ্যুত বিল পরিশোধের কোন ব্যবস্থা করা হয় নাই। এছাড়াও দোকান ঘরের আয়তন বড় হওয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয় ছোট আয়তনের দোকান ঘর। মার্কেটের ওয়াশরুমসহ টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয় নি। অগ্রিম টাকা গ্রহন করেও নি¤œ মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে মার্কেট নির্মাণ। এতো সমস্যার মধ্যেই এক বছরে ৯টি দোকান ঘরে চুরি ব্যবসায়ীদের আতংকিত করে তুলেছে।

উপরোক্ত দোকান ঘরের জামানত, ভাড়া ও বিদ্যুত বিল অনেক বেশি হওয়ায় দোকান মালিক সমিতির পরিবার এখন অসহায় হয়ে পড়েছে বলে স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য