আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকেঃ লালমনিরহাটে দুই শতাধিক হেক্টর জমিতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। জেলার ৫ উপজেলার তিস্তা, সানিয়াজান ও ধরলা নদীর চর অঞ্চলের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলোতেও মিষ্টি কুমড়া চাষ করে বদলে দিয়েছে শত শত কৃষকের ভাগ্য।

জানা গেছে, লালমনিরহাট কৃষি অধিদপ্তর এ বছর জেলায় রবি মৌসুমে ৭০ হেক্টর ও খরিফ-১ মৌসুমে ৩৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করলেও তা ছাড়িয়ে প্রায় ২ শত হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষাবাদ হয়েছে। ফলে জেলার দিগন্তজুড়ে মিষ্টি কুমড়া ক্ষেতের সমারোহের পাশাপাশি বাম্পার ফলনে কৃষকরা বেশ খুশি।

এ অঞ্চলের অর্থকারী ফসল ধান, ভুট্টা ও তামাক চাষের ওপর নিভরশীল কৃষকের জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ এনে দিয়েছে নতুন গতি। কৃষকদের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে কৃষির এই সফল পরিবর্তন।

জেলার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রফতানি হচ্ছে। উর্বর বেলে-দোআঁশ মাটির কারণে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধানের চেয়ে রবি শস্য ও সবজি আবাদ বেশি হচ্ছে।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার চর ও সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলার মিষ্টি কুমড়া ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে রবি শস্যের অন্যতম মিষ্টি কুমড়া।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী গ্রামের মিষ্টি কুমড়া চাষি আইয়ুব আলী জানান, এবার তিনি ১৩ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে দেড় লক্ষ টাকা। তিনি আশা করছেন অন্তত ৩ লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে পারবেন। এ ছাড়াও হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়নে মিষ্টি কুমড়া চাষে যারা লাভবান হয়েছেন তাদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম, জাকির মোল্লা, এলাহী বকসের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুপ্রেরণায় তারা কুমড়া আবাদ করে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন। পাশাপাশি বিক্রিতেও তেমন কোনো ঝামেলা নেই।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এবার মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। মিষ্টি কুমড়া আবাদ করে লাভবান হয়েছেন অনেক কৃষক।

লালমনিরহাট কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, জেলার ৫ উপজেলার চর অঞ্চল গুলোতে অনেক জমি পতিত পড়ে থাকে। সেই জমি গুলোতে মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করে জেলার শত শত কৃষক তাদের পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য