চতুর্থ মেয়াদে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভ্লাদিমির পুতিনের অভিষেকের আগে বিরোধী দলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিসহ প্রায় এক হাজার ৬০০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

শনিবার মস্কোসহ বিভিন্ন শহরে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভ থেকে এদের আটক করা হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পুতিনের ‘স্বৈরতান্ত্রিক, জারের মতন শাসনের’ বিরোধীতা করতে রাশিয়ার ৯০টিরও বেশি শহরে নাভালনি এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। আটক হওয়ার আগে মস্কোর কেন্দ্রস্থলে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাও করেছিলেন বিরোধীদলের এ নেতা, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ‘জারের পতন চাই’ স্লোগানেও।

“তারা বলে এই শহর নাকি পুতিনকে ধারণ করে। তারা কি ঠিক বলেন? আপনাদের কি একজন জার প্রয়োজন?,” সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেওয়া নাভালনির এই প্রশ্নের উত্তরে গর্জনের মতো প্রত্যুত্তর আসে, “না”।

চলতি বছরের মার্চের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হয়ে আরও ৬ বছরের জন্য রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকছেন ভ্লাদিমির পুতিন। মেয়াদ শেষ করতে পারলে ২৪ বছর রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকার গৌরব অর্জন করবেন তিনি, যা হবে সোভিয়েত আমলের নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড।

দুর্নীতির অভিযোগে সর্বশেষ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি অ্যালেক্সি নাভালনি। যদিও সব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে আসছেন তিনি।

শনিবার মস্কোর পুশকিন স্কয়ার থেকে নাভালনিকে পুলিশ আটক করে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তার সমর্থকরা তখন ‘পুতিন ছাড়া রাশিয়া’ ও ‘পুতিন চোর’ স্লোগান দিচ্ছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের ৫ সদস্য নাভালনির বাহু ও পা ধরে তাকে অপেক্ষারত একটি ভ্যানে তুলে নেয়। পুতিনবিরোধী আরও ডজনখানেক সমর্থককেও একইভাবে আটক করা হয়।

বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়েশিন পরে জানান, নাভালনির বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ধরনের ধারাবাহিক অপরাধের শাস্তি হিসেবে আর্থিক জরিমানা ও সর্বোচ্চ ৩০ দিনের কারাদণ্ডের বিধান আছে।

শনিবার গভীর রাতে টুইটারে নাভালনি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা ওভিডি-ইনফো জানিয়েছে, শনিবার পুলিশ রাশিয়াজুড়ে পুতিনবিরোধী বিভিন্ন বিক্ষোভ থেকে এক হাজার ৫৭৫ জনকে আটক করে, যার মধ্যে অর্ধেককে আটক করা হয় কেবল মস্কো থেকে। ক্রেমলিন সমর্থক কসাকরা বিক্ষোভকারীদের ওপর চামড়ার চাবুক নিয়ে হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলেও দাবি তাদের।

পুলিশের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স মস্কোর বিক্ষোভে দেড় হাজারের মতো আন্দোলনকারী অংশ নেয় বলে জানিয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছিল বলে দাবি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

সাইবেরিয়া ও সেইন্ট পিটার্সবুর্গেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারফ্যাক্স। সেসব এলাকা থেকেও প্রায় ২০০ আন্দোনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রয়টার্সের প্রতিনিধি মস্কো থেকে ৯০০ মাইল পূর্বের শহর ইয়েকাতেরিনবুর্গেও হাজারখানেক বিক্ষোভকারীকে পুতিনবিরোধী স্লোগান দিতে দেখার কথা জানিয়েছেন।

অনুমতি ছাড়া সংঘটিত এসব বিক্ষোভকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে রুশ পুলিশ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্যই বিভিন্ন বিক্ষোভ থেকে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

২০০০ সালের পর থেকে হয় প্রধানমন্ত্রী নতুবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার ৬৫ বছর বয়সী সাবেক এ কেজিবিপ্রধানকে চতুর্থ মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নেবে ক্রেমলিন।

জাতীয় গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সিরিয়া ও ইউক্রেইনে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বে মস্কোর পুরনো আধিপত্য ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়ে পুতিন রুশ সমর্থকদের চোখে ‘জাতির পিতার’ মর্যাদা পাচ্ছেন বলেও ভাষ্য পর্যবেক্ষকদের।

চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের ৭৭ শতাংশই পুতিনের পক্ষে তাদের রায় দেন। সোভিয়েত আমলের পর দেশটিতে এটিই কোনো প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য