মোঃ রজব আলী, ফুলবাড়ী থেকেঃ দিনাজপুর জেলার সর্বদক্ষিন-পূর্বাঞ্চলের ৪ উপজেলা বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ও ঘোড়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত, জাতীয় সংসদীয় এলাকা-১১ ও দিনাজপুর-৬ আসন। এই আসনে ২৬টি ইউনিয়ন, ৩টি পৌরসভায় প্রায় ৪ লাখ ভোটার। এই আসনে আগাম হাওয়া পড়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামীলীগের দলিয় সংসদ শিবলি সাদিক। তিনি ২০১৪ সারের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে দলিয মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, ওই নির্বাচনে তার একমাত্র প্রতিদন্দি ছিল ওয়ার্কাস পাটির প্রার্থী রবীন সরেন।

বর্তমান সংমদ সদস্য শিবলি সাদিক এর বিরুদ্ধে একাধিন অনিয়ম দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য স্বজনপ্রীতির ও দলিয় বিশৃংখলা সৃষ্ঠির অভিযোগ তুলেছেন তার নিজ দলিয় নেতা কর্মিরা, এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ্য প্রহরি নিয়োগকে কেন্দ্র করে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। নেতা কর্মিরা বলছেন, বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলি সাদিক ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর, দলের ত্যাগী নেতা কর্মিদের বাদ দিয়ে তার নিজেস্ব্য বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্ঠা করে। এতে প্রতিটি উপজেলায় দলিয় ও অঙ্গসংগঠন গুলোতে দেখা দেয় দলিয় বিশৃংখলা। সুধু তাই নয় স্থানীয় নির্বাচন গুলোতে দলিয় মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে, তার পছন্দের ব্যাক্তিকে বিদ্রহী প্রার্থী হিসেবে দাড়ীয়ে দেয়, এতে স্থানীয় নির্বাচনে দলিয় প্রার্থীদের পরাজয় ঘটে। এই কারনে দলের ত্যাগী নেতা কর্মিরা তার বিপক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে, বর্তমান সংসদ সদস্য সিবলি সাদিক এর বিপরিতে মাঠে নেমেছে আরো ৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। এরা হলেন, দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলতাফুজ্জামান মিতা, সাবেক সংসদ সদস্য ড, আজিজুল হক, বিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদ ও বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ কবীর, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান, বিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মন্ডল, ঘোড়াঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি কাজি মাকছেদুর রহমান, বিরামপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্কাস আলী, ও জয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আইনুল হক চৌধুরী। তারা বিভিন্ন সভা-সেমিনার গণসংযোগ করে যাচ্ছে নেতা কর্মিসহ সাধারন ভোটার সাথে।

এদিকে একাদশ জাতীয নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমান মিন্টু। তিনি চার উপজেলার নেতা কর্মিদের সাথে নিয়ে, বর্তমান সরকারের ব্যার্থতা ও বর্তমান সংসদ সদস্যর অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্য বদ্ধ করার চেষ্ঠা করছেন। তিনি বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচননে তাকে দলিয় সনোনয়ন দেয়া হলে, তিনি সহজে নির্বাচিত হতে পারবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও ড্যাব নেতা ডাঃ জাহিদ। তার বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলায়। গত আগষ্ট মাসে বিরামপুর ও নবাবগঞ্জে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ড্যাব নেতা ডাঃ জাহিদ। সেসময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা দিনাজপুর-৬ আসনটিতে দলীয় প্রার্থী দেয়ার দাবি জানান। এছাড়া মাঠে আছেন জাতীয় পাটির (জাপা) দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলি সাদিক এর বড় জ্যাঠা বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরীর মালিক দেলওয়ার হোসেন। তবে জোটগত নির্বাচন হলে এই আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে দাবী করছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দরা। সেক্ষেত্রে জোটের প্রার্থী হতে পারেন জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল ইসলাম। তার বাড়ি হাকিমপুর উপজেলায়।

বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলিয় মনোনয়ন প্রত্যাশী পারবেজ কবীর বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে সংসদ সদস্যর দেয়া বিদ্রহী প্রার্থীর জন্য চার উপজেলায় ২৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ২২ টি ইউনিয়নে দলিয় প্রার্থী পরাজিত হয়। সুধু ইউপি নির্বাচনে নয়, একই ভাবে উপজেলা নির্বাচনে ৪টি উপজেলার মধ্যে তিনটিতে পাজয় হয়, তিনটি পৌরসভার মধ্যে দু’টি পরাজিত হয় দলিয় প্রার্থী। নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদ আতাউর রহমান বলেন, সরকারে ঘোষনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয় করন করা হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলা ঐতিহ্যবাহী কলেজ হচ্ছে দাউদপুর ডিগ্রী কলেজ, যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, অথচ সংসদ সদস্য শিবলি সাদিক স্বজন প্রীতির মাধ্যেমে তার নিজ এলাকায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে আফতাব গঞ্জ কলেজকে জাতীয় করনের চেষ্ঠা করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিযমের অভিযোগ করছেন তার নিজ দালের নেতা কর্মিরা। নেতা কর্মিরা বলছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলি সাদিককে বাদদিয়ে যে কাউকে মনোনয়ন দিলে, তারা এক হয়ে কাজ করবে। এজন্য সম্প্রীতি দুর্গাপুজায় বর্তমান সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে, দলিয নেতাকর্মিদের বিশাল বহর সাথে নিয়ে বাকি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এক সাথে পুজা মন্ডব পরিদর্শন করেন ।

দিনাজপুরজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলতাবুজ্জামান মিতা বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলিয়নেত্রী তাকে মনোনয়ন দেয়ার অঙ্গিকার করেছিলেন, কিন্তু দলের প্রয়োজনে তিনি তার মনোনয়ন ত্যাগ করেছিলেন, এতে তিনি বার বার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন, তার পরেও সে নিরলস বাবে দলের কাজ করে গেছেন, এই বিষয়টি দলিয় নেত্রী ও প্রধান মন্ত্রী জানেন, তিনি এই বার তাকে মনোনয়ন দিবেন বলে দাবী করেন।

এই আসনটিকে কোন দলের ঘাঁটি বলা যাবে না। বিগত নির্বাচনগুলো পর্যলোচনা করলে দেখা যায়, এই আসনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাাফিজুর রহমান, ২০০১ সালে চার দলীয় জোটের জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের ড. আজিজুল হক এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানয়ারী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শিবলী সাদিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তন সময়ে লেগে থাকা দলিয কোন্দল চলতে থাকলে এই আসনটি আবারো আওয়ামীলীগের হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিরা।

এই বিষযে বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলি সাদিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত ৪ বছরে বর্তমান সরকারের উন্নায়নের ধারাবহিকতায় চারটি উপজেলায় একাধিন স্কুল কলেজে আধুনিক ভবন নির্মান, রাস্তাঘাট পাকা করনসহ বিভিন্ন উন্নায়ন মুলক কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেন প্রত্যকটি বড় দলে একাধিন নেতৃত্বে দন্দ থাকে, যেহেতু এই আসনটি চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত, সেহেতু দলের মধ্যে মনোনয়ন যুদ্ধ থাকবে এই কারনে তারা তার বিরুদ্ধে এই সকল মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে মনোনয় পাওয়ার জন্য, তিনি বলেন, তিনি আবারো দলিয় মনোনয়ন পাবেন।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সহসভাপতি ডাঃ জাহিদ বলছেন জনগনের আকাংখার বহিপ্রকাশ ঘটনার জন্য, নিরোপেক্ষ নির্বাচন হলেই কেবল বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে। আরো বলেন দল যাকে মনোনিত করবেন তাকে নিয়ে তিনি নির্বাচনে কাজ করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য