কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি মহল দাদন ব্যবসার টাকা নিয়ে হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উস্কে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। মিথ্যা ঘটনা প্রচার করায় উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের সকল বর্ণের মানুষজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ধামশ্রেনী ইউনিয়ন হিন্দু-মুসলিম ঐক্য জনতার ব্যানারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় শনিবার দুপুরে উলিপুর প্রেসক্লাব হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ালীগ ধামশ্রেণী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ সরদার বলেন, চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী ও মাদক সম্প্রাট গোবিন্দ পাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে চড়া মূল্যে দাদনের টাকা দিত। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে জনৈক এক পুলিশ কর্মকর্তার সোর্স জসিম উদ্দিনকে সাথে নেয়। একপর্যায়ে চড়াসুদসহ টাকা পরিশোধে অনেকে গড়িমশি করলে সে উলিপুর থানার জনৈক এক এস.আই’র সহযোগীতা নেন।

এমনকি ঐ পুলিশ কর্তকর্তার মোটরসাইকেলে জসিম দাদন ব্যবসায়ী গোবিন্দপালকে নিয়ে সদর্পে এলাকার নিরীহ দাদন গ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুকমি দিয়ে বেড়াত। তাদের ভয়ে নিরীহ অনেকেই ভীতিকর পরিস্থিতিতে ছিল। সংবাদ সম্মেরনে উল্লেখ করা হয়, তারা দু’জন ঐ পুলিশ কর্তকর্তার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় এলাকার যুবকদের ইয়াবাসহ মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে আসছিল। তার উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামী ধামশ্রেনী ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুনসুর আলী বিভিন্ন সময় গোবিন্দ পালকে দাদন ও মাদক ব্যবসা করে স্থানীয় মানুষজনকে ধ্বংস না করার পরামর্শ দিত।

এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে গোবিন্দপাল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গত ২০ এপ্রিল দিবালোকে উলিপুর সদরের আল-স্বাদ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অর্তকিত মুনসুর আলীর উপর হামলা চালায়। এসময় মুনসুরের সাথে থাকা আরো ৩-৪ জন হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা এসময় টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মুনসুর ঐদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে রহস্যজনক নিরবতা পালন করে। এদিকে ঐদিন রাতে গোবিন্দ পাল ও জসিম মোটর সাইকেল নিয়ে সন্ধায় উলিপুর পোস্টঅফিস সংলগ্ন স্থানে পৌঁছিলে তাদের উপর কে-বা কারা হামলা চালায়।

ঘটনার পর পরই পুলিশ অতি উৎসাহি হয়ে পূর্বে সংঘটিত হামলার ঘটনায় মামলা না নিয়ে গোবিন্দ পালের দায়ের করা মামলায় উল্টো মুনসুর আলীসহ ৮ জনকে আসামী করে মামলা রেকর্ড করেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। গোবিন্দ পাল ঐ এলাকার নুকুল চন্দ্র পালের পূত্র প্রদীপ চন্দ্র পালসহ অনেক নিরীহ হিন্দু পরিবারের লোকজনকে ভিটেমাটি ছাড়া করছে। তার সাথে পুলিশের সখ্যতা থাকায় ভয়ে স্থানীয় কেউ কথা বলার সাহস পান না। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ধামশ্রেনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ সরদার।

তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ধামশ্রেনী ইউনিয়নে কখনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানেও কোন সম্প্রতি নষ্ট হয়নি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ধামশ্রেনী ইউপি চেয়ারম্যান রাখিবুল হাসান সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী সরদার মুকুল, ধামশ্রেনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক সরদার, হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য রঞ্জন পাল, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম পঞ্চুসহ প্রায় শতাধিক এলাকাবাসি। পরে শহরের বড় মসজিদমোড়ে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চক্রান্তকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য