যক্তি জীবনের জটিলতায় বেশ কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। সম্প্রতি নবরূপে ফিরেছেন অভিনয়ে। বেশ কিছু টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন আজমেরি হক বাঁধন। কিছুদিন আগেই ফেসবুকে কিছু গ্ল্যামারাস ছবি প্রকাশ করেন। এরপরই কেউ কেউ মনে করেন সিনেমায় অভিনয় যাচ্ছেন বাঁধন। এবার শুরু করেছেন নতুন জার্নি। একেবারে বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় ‘দহন’ নামের নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। রায়হান রাফির পরিচালনায় ছবিটিতে আরো অভিনয় করবেন সিয়াম ও পূজা। এদিকে সন্তানের অভিভাবকত্বের অধিকার চেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা করেছিলেন বাঁধন। সেখানেও আদালত বাঁধনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালতের রায়ে মেয়ের অভিভাবক হিসেবে অধিকার পেলেন তিনি।

এই রায়টি বাংলাদেশে বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন অনেকেই। সাধারণত বাংলাদেশে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে বাবাকে ধরা হয়। আদালত রায়ে জানিয়েছেন মা হিসেবে বাঁধনই তার মেয়ে সায়রার অভিভাবক। বিষয়টির মধ্য দিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাঁধন। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, এই আদেশ উপমহাদেশে বিরল উদাহরণ।’ বাঁধন আরো বলেন, ‘বাবা তার কন্যা সন্তানের পাসপোর্ট আটকে রেখেছেন।

আদালত সেটা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে। যদি বাবা না দেন, তবে বাদীকে থানায় জিডি করতে বলেছেন এবং নতুন পাসপোর্ট দেবার জন্য পাসপোর্ট অফিসে বিজ্ঞ আদালত চিঠি ও আদেশ পাঠিয়ে দেবেন বলেও জানালেন। কন্যাশিশুকে নিয়ে মা দেশের ভেতরে এবং বাইরে যেতে পারবেন যেহেতু মা-ই শিশুর অভিভাবক।’

মেয়েকে নিয়ে যখন আনন্দে আত্মহারা বাঁধন সেদিনই জমকালো মহরতের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হলো ‘দহন’ ছবির নায়িকা হিসেবে অভিনয় করতে যাচ্ছেন আজমেরি হক বাঁধন। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই নিজেকে প্রস্তুত করেছি। ছবির জন্য আমাকে ওজন কমাতে হয়েছে। প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছি। আরো ৫ কেজি ওজন কমাতে হবে।

এ ছাড়া এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমাকে বাইক চালানো শিখতে হচ্ছে।’ বাঁধনের এই বদলে যাওয়া নিয়ে প্রশংসা করছেন অনেকেই। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বাঁধনের এই নবরূপে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন শোবিজ পাড়ার অনেকেই। বাঁধন বলেন, ‘জীবন তো থেমে থাকে না। ভালো কিছু কাজের মধ্য দিয়ে সবার ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। আমার জন্য শুভকামনা জানাবেন।’

২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হন বাঁধন। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধীনে দন্ত চিকিৎসা বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন তিনি। তবে আপাতত অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান বাঁধন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য