চীনের পক্ষ থেকে কার্ল মার্কসের মূর্তি উপহার দেওয়ায় মার্কসের নিজের শহর জার্মানির ট্রায়ারে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোর যৌথ রচয়িতাদের একজন কার্ল মার্কসের জন্ম শহরের অনেকেই চান না চীনের কাছ থেকে তার মূর্তি উপহার নিতে বা তা শহরে স্থাপন করতে। বার্লিন দেওয়ালের পতনের পর পূর্ব জার্মানির বহু প্রান্ত থেকে মার্কসের মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, শনিবার মার্কসের জন্মদ্বিশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মূর্তিটি উন্মোচন করার কথা। বিবিসি লিখেছে, মার্কসের মূর্তি উন্মোচন উপলক্ষে প্রতিবাদ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে ট্রায়ারে। পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কসের সমালোচনা করা যেতে পারে কিন্তু কোনও বিশৃঙ্খলার সহ্য করা হবে না।

চীনের পক্ষ থেকে ওই ১৮ ফুল লম্বা মূর্তিটি আরও আগেই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার প্রতিবাদের মুখে তা পিছিয়ে যায়। মূর্তি স্থাপনের অনুষ্ঠান হলেও মূর্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হবে শনিবার (৫ মে)। চেক রিপাবালিকের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাক্লাভ ক্লাউস বলেছেন, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যান ক্লাউড জাংকাররের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি প্রমাণ করে ইউ মার্কসবাদী হয়ে যাচ্ছে।

‘ভিক্টিমস অফ কমিউনিজম ককাসের’ সহ-সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ৪. জন সদস্য জ্যাংকারকে চিঠি লিখেছনেছিলেন, তিনি যেন মার্কসের জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে না যান। তাতা দাবি করেছিলেন, ওই মূর্তিটি সমাজতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের কারণে ভুক্তভোগী হওয়া লাখ লাখ মানুষের প্রতি করা স্পষ্ট অপমান। তারা আরও লিখেছিলেন, ‘মার্কসবাদী শাসনব্যবস্থা ১০ কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। এদের মধ্যে ৬ কোটি ৫০ লাখ চীনে, ২ কোটি সোভিয়েত ইউনিয়নে এবং বাকি ২ কোটির মতো মানুষ উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যু বরণ করেছে।’

অন্যদিকে পেন সংগঠনের জার্মান শাখার সহ-সভাপতি রাল্ফ নেসমেয়ার চীনা উপহারের বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘মার্কস সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে উদার গণতান্ত্রিক সমাজের একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেছেন। অথচ পরিহাসের বিষয়, চীনে বহু বছর ধরেই ওই স্বাধীনতা খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।’

প্রতিবেশী লুক্সেমবার্গের জাংকার এসব দাবির বিরোধিতা করে বলেছেন, জার্মান দার্শনিক মার্কস তার মৃত্যুর পরে ঘটা হিংস্রতার জন্য দায়ী হতে পারেন না। তিনি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি নিজেও মার্কসের মতো বিশ্বাস করেন, ‘অন্ধ ও শর্তহীন পুঁজিবাদ’ যখন মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না তখন তা ‘মহামারি’ হয়ে উঠতে পারে। ট্রায়ার শহরে মার্কসের মূর্তি স্থাপন তিনি সমর্থন করেন। কারণ মার্কস ইউরোপীয় ইতিহাসের অংশ।

ট্রায়ার শহরে মার্কসের মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে শহরের প্রধান আকর্ষণস্থল— একটি রোমান স্থাপনার—পাশে। কেউ কেউ উষ্মা প্রকাশ করেছেন এই বলে যে এতে চীনা পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আবার কেউ কেউ চীনা পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই আশাবাদী হচ্ছেন।

বিবিসিকে ট্রায়ারের মেয়র বলেছেন, ‘আমরা মূর্তিটিকে বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং আশা করি মূর্তিটির উপস্থিতি মানুষকে কার্ল মার্কস সম্পর্কে সহনশীল হতে শেখাবে। হয়তো কিছু মুল্যায়ন এবং পূর্বধারণা পাল্টে যাবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য