‘আপাতত আমার সব ধ্যানজ্ঞান অভিনয়কে ঘিরেই।’ বলছিলেন নাবিলা ইসলাম। ছোট পর্দার এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘মিডিয়ায় আমার শুরুটা হয়েছিল নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। তাই এই জায়গাতেই নিজের অবস্থানটা পাকাপোক্ত করতে চাই।’ সম্প্রতি প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন ছোট পর্দার এই অভিনেত্রী। অভিনয়ের শুরু, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

শুরুতেই জানতে চাই, অভিনয়ে কীভাবে এলেন। নাবিলা জানান, মা-বাবার আগ্রহে ছোটবেলা থেকে অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, গানের চর্চাসহ সংস্কৃতির নানা শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল তাঁর। তবে অভিনয়ের প্রতি ছিল আলাদা দুর্বলতা। ২০১৩ বা ’১৪ সালের দিকে পরিচালক ওয়াহিদ তারেক লিটল অ্যাঞ্জেল আইএম ডায়িং নামে একটি টেলিছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন নাবিলাকে। পরিচালকও ছিলেন পূর্বপরিচিত। অভিনয়ে রাজি হয়ে যান তিনি। নাবিলা বলেন, ‘অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা ছিল। তাই কাজটি হাতছাড়া করতে চাইনি। তা ছাড়া নিজের প্রতি একটা আত্মবিশ্বাস ছিল আমি পারব। সেই থেকে শুরু।’

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ছিল প্রথম দিনের শুটিং। প্রথম দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার স্মৃতি মধুর নাবিলার কাছে। তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের চর্চা থাকার কারণে শুটিংয়ের প্রথম দিন তেমন ভয় লাগেনি। শুটিং চলাকালে পরিচালক আমাকে বললেন, ‘‘নাবিলা, তোমার কাজ দেখে মনেই হচ্ছে না যে তুমি আজ প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছ।’’ তারেক ভাইয়ের এই কথাগুলো আমার সারা জীবন মনে থাকবে।’

ওই টেলিছবিটি ঈদুল আজহায় দেশ টিভিতে প্রচারিত হওয়ার পর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা পান নাবিলা। এরপর পড়াশোনার চাপে মাঝে আর অভিনয় করা হয়নি। প্রায় এক বছর বিরতি দিয়ে পরের বছরের ঈদে আশুতোষ সুজনের তক্ষক নামে এক ঘণ্টার একটি নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। পরপরই ২০১৫ সালের শেষে ইমরাউল রাফাতের কলিংবেল ধারাবাহিকে সুযোগ পান তিনি। ধারাবাহিকটির প্রচার চলাকালে জয়ন্ত রোজারিওর উপহার ও ভালোবাসা দিবসে ইমরাউল রাফাতের তোমায় ভেবে লেখা নামে দুটি একক নাটকে অভিনয় করে পরিচালকদের নজরে আসেন। নাবিলা বলেন, ‘সত্যি কথা কী, এই দুটি নাটক আমাকে অভিনয়ে এগিয়ে দিয়েছে। আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নাবিলাকে। এখন দারুণ ব্যস্ত ছোট পর্দার এই অভিনেত্রী। এক ঘণ্টার নাটক তো আছেই, একসঙ্গে চারটি ধারাবাহিক নাটকের নিয়মিত অভিনেত্রী তিনি। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সেই ধারাবাহিকগুলো নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে। এগুলো হলো—মাসুদ সেজানের খেলোয়াড়, ইমরাউল রাফাতের সিনেম্যাটিক, গৌতম কৈরির বেসিক আলী, আশিষ রায়ের ভালোবাসার রং। এ ছাড়া আরও তিনটি ধারাবাহিক আছে প্রচারের অপেক্ষায়।
শুধু অভিনয়ই নয়, এরই মধ্যে প্রাণ ফ্রুটো, বার্জার পেইন্ট, এন-ফার্মা, কেডিএসসহ প্রায় হাফ ডজন পণ্যের বিজ্ঞাপনেও মডেল হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন চ্যানেলে বিউটি টক শো, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, সরাসরি গানের অনুষ্ঠানেও উপস্থাপনা করেছেন নাবিলা।

অভিনয়, উপস্থাপনা, বিজ্ঞাপন—কোনটি নাবিলার বেশি পছন্দের? তাঁর চটজলদি উত্তর, ‘অভিনয়ই আমার ভালো লাগা, ভালোবাসা। তবে বিজ্ঞাপনে কাজ করতে মজা লাগে।’
সংসারে তিন বোনের সবার বড় নাবিলা। বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএতে পড়াশোনা করছেন।

নিজের বর্তমান ব্যস্ততা ও কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই নাটক তৈরি হচ্ছে। পুরোনোদের দলে নতুন নতুন শিল্পীরা যোগ হচ্ছেন। ভালো কাজ করার মধ্য দিয়েই টিকে থাকতে হবে এখানে। সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি আমি।’ নাবিলার সেই চেষ্টা কতটা সফল হয় তা-ই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য