প্রচণ্ড ধুলাঝড় ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টিতে ভারতের রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরখণ্ডে কমপক্ষে ৭১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই ঝড়ে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাজস্থান রাজ্যের কয়েক জেলায় ‍বুধবার রাতে ধুলাঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এই রাজ্যে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩১ জন।

উত্তর প্রদেশে বজ্রপাতসহ বৃষ্টিতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৪২ জন বলে জানা গেছে। উত্তরখান্ডে লণ্ডভণ্ড হয়ে অনেক ঘরবাড়ি। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। তবে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই’র বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট নিহতের সংখ্যা ৭৭ বলে জানিয়েছে। তাদের খবরে ১৪৩ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, উত্তর প্রদেশের চার জেলায় ঝড়ের কবলে পড়ে কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে আগ্রা জেলায়। সেখানে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আর বিজনোরে তিনজন ও সাহারানপুরে দুই নিহত হয়েছেন। ঝড়ের পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার করার জন্য জেলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজস্থানে নিহতদের বেশিরভাগই বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কয়েকদিন ধরেই রাজ্যস্থানে তীব্র গরম চলছিল। অনেক স্থানে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছিল। এরই মধ্যে বুধবার রাতে এই ধুলাঝড় শুরু হয়। ধুলোঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভরতপুর এবং অলওয়ার জেলা। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ভরতপুরেই মারা গিয়েছেন ১২ জন। আর অলওয়ার জেলার একটি গ্রামে বজ্রপাত্র থেকে আগুন লেগে ৪০টিরও বেশি কুড়েঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অলওয়ারে চারজন, ঢোলপুরে পাঁচজন, ঝুনঝুনু ও বিকানেরে এক জন করে এবং অন্যান্য জায়গায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। ঝড়ের দাপটে অলওয়ারে একশ’রও বেশি গাছ উপড়ে পড়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি-দোকানপাটের উপরে গাছ পড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন বহু মানুষ।

ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের খুঁটির উপরে গাছ পড়ায় তার ছিঁড়ে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অলওয়ারের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী ডি পি সিংহের বরাত দিয়ে আনন্দ বাজার প্রত্রিকার খবরে বলা হয়, ‘ঝড়ের দাপটে এক হাজারেরও বেশি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। গোটা শহরই অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও দিন দুয়েক সময় লাগবে।’


এমন প্রলঙ্কারী ঝড়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে টুইট করেছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে। আহতদের সব ধরনের সাহায্যের জন্য জেলা প্রশাসনকেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর নিহতদের শোকে নিজের জন্মদিনের উৎসব পালন বন্ধ রেখেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত।

উত্তরখণ্ডের দুর্যোগ প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, কুমাওন জেলায় কমপক্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রাজ্যের আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারী বৃষ্টিসহ বজ্রপাত আরও ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। চামোলি, উত্তরকাশি, রুদ্রপ্রায়াগ ও পিথোগ্রামসহ রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এসব এলাকায় পাহাড় ও ভূমি ধসেরও আশঙ্কা করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

এছাড়া পাঞ্জাব প্রদেশের মোহালি, জিরাকপুর, লুধিয়ানা ও মুক্তসারসহ আরও কয়েকটি জেলায় ঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাটিয়ালায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হরিয়ানা প্রদেশের পাঞ্চকুলা, কার্নাল, মাহেনদারগড় ও আম্বালায়ও ধুলাঝড়ের খবর পাওয়া গেছে। এসব স্থানে অনেক গাছ উপড়ে পড়ে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিদুৎ সরবরাহ ব্যবস্থারও অনেক ক্ষতি হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যগুলোতে প্রচণ্ড গরম থাকলেও ঝড় ও বৃষ্টির পর তাপমাত্রা দ্রুত কমে গেছে। অনেক এলাকায় হাড় কাঁপানো শীতও অনুভূত হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য