মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁও টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার সালে সারা দেশে ৩০ টি জেলায় নতুন টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপিত হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ভাড়া প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে।

তখন থেকেই ভাড়া বাসায় প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ পাঠদান চলছে। ডাইং প্রিন্টিং এন্ড ফিনিশিং, ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং, উইভিং ও নিটিং ৪ শাখায় ১১২ জন শিক্ষার্থী নবম হতে দশম শ্রেণী পর্যমত্ম শিক্ষা গ্রহণ করছে।

ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডে অফিস সরকারী টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ভাড়া নিয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঠাকুরগাঁও রোড, রম্নহিয়া ও শিবগঞ্জ এলাকায় নিজস্ব জমি থাকা সত্তেও তাদেরি অধীনস্থ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ২ হাজার খ্রি: হতে ঠাকুরগাঁওয়ে ভাড়া প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম শুরম্ন করে। অথচ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জায়গাতে ভূমি অফিস, ডাকঘর, সমাজ সেবার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ব্যক্তি মালিকানায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

১৯১০ খ্রি: প্রতিষ্ঠিত ভ্রাম্যমান বয়ন বিদ্যালয় বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সরকারী টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের ঠাকুরগাঁওয়ে নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ভাড়া বাসাতেই চলছে পাঠদানের কার্যক্রম। গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা নিতে হচ্ছে। এতে নানা সমস্যায় পাঠদানসহ সরকার আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির ইতিহাস:
বৃটিশ যুগে ১৯১০ হতে ১৯৩০ খ্রি: এর মধ্যে স্থাপিত ২৭ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ভ্রাম্যমান বয়ন বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার দরিদ্র যুবকদের ২/৩ বছরের প্রশিক্ষণ ও আতœকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অবস্থান করতো। পরবর্ত্তিতে ১ বছর আর্টিজেন কোর্স এর মাধ্যমে ১৯৯৬ ইং সনে ২ বছর মেয়াদী এসএসসি ভোকেশনাল কোর্স লাভ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি স্কুল অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজী নামে আত্ম প্রকাশ করে।

অধুনা টেক্সটাইল ভোকেশনালের নামে পরিচালিত। প্রতিষ্ঠানটি ১৯১৯ সনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইতিকথা থাকলেও অফিস রের্কড আনুযায়ী বৃটিশ যুগে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলায় ১৯৩৫-৩৮ সন পর্যমত্ম জসাইঘাট, ফুলবাড়ী, ১৯৩৮-৪২ সন পর্যন্ত রায়গঞ্জে, ১৯৪২-৪৪ সন পর্যন্ত নুরুল হুদা পার্বতীপুর, ১৯৪৪-৪৫ সন পর্যন্ত চেরাডাঙ্গী, দিনাজপুর সদর, ১৯৪৫-৫১ সন পর্যন্ত বোচাঞ্জ, দিনাজপুর, ১৯৫১-৬৬ সন পর্যন্ত ঘুঘুডাঙ্গা, সদর দিনাজপুর, ১৯৬৬-৭৫ সন পর্যমত্ম তারগাঁও কাহারোল, ১৯৭৫-৮৬ সন পর্যমত্ম রাণীরবন্দর আলোকডিহি , কাহারোল, ১৯৮৬-৮৮ সন পর্যন্ত রাণীগঞ্জ দিনাজপুর সদর, ১৯৮৮-৯৩ সন পর্যন্ত শিকদারগঞ্জ, সদর দিনাজপুর, ১৯৯৩-৯৫ সন পর্যন্ত সিরাজুম মনিরা সদর দিনাজপুর,১৯৯৫-২০০০ সন পর্যন্ত ছোটগুড়গোলা দিনাজপুর। পরবর্ত্তিতে একই জেলায় ২ টি বিদ্যালয় না থাকার আইন হলে ২০০০ হতে অদ্যাবধি হাজীপাড়া, ঠাকুরগাঁও সদরে প্রতিষ্ঠিত হয়।

টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারী টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে পড়ালেখা ভাল হয়। ইন্সটিটিউটটি কারিগরী প্রতিষ্ঠানে জেলার শ্রেষ্ঠ ও বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা পেয়েছে। ইন্সটিটিউটটি সরকারী কিন্তু এলাকার মানুষ জানে না।

ঠাকুরগাঁও সরকারী টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের সুপারিনটেন্ডট স্বপন কুমার বোস বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া সুচারু রুপে পরিচালনা করা যায় না।

ঠাকুরগাঁও সরকারী টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটেরু শিক্ষক বৃন্দ বলেন, আবাশিক এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভাল ভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনা। শিক্ষার্থীদের বসার জায়গাসহ নানা সমস্যার মধ্যে যুগোপযোগি শিক্ষার জন্য প্রজেক্টর অতীব জরুরী প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁও গণর্পূত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক বলেন, পরিচালক বস্ত্র পরিদপ্তরের চিঠির চাহিদার প্রেক্ষিতে খসড়া প্রাক্কলন করে পাঠানো হয়েছে। পরবর্ত্তিতে আর কোন ফিটবেক পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবী সরকার সরকারী টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটকে নিজস্ব জায়গাতে নিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সরকারি অর্থ ব্যায় কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য