তাজমহলের উদ্বেগজনক রং পরিবর্তন ঠেকাতে প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

পরিবেশবাদীদের দেওয়া স্থাপনাটির নানান আলোকচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিচারক মদন লোকুর ও দীপক গুপ্ত মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে এ নির্দেশনা দেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

আদালত বলেছে, সাদা মার্বেল ও অন্যান্য উপাদানে তৈরি সপ্তদশ শতকের বিখ্যাত এ সমাধিটির রং হলুদ হয়ে গিয়েছিল, আর এখন বাদামি ও সবুজ হয়ে যাচ্ছে।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিচারকদ্বয় বলেছেন, “যদি আপনাদের বিশেষজ্ঞ থেকেও থাকে, তাহলেও আপনারা তাদের ব্যবহার করছেন না, অথবা আপনারা একে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।”

দূষণ, নির্মাণ শিল্প ও কীটপতঙ্গের বিষ্ঠা এই রং বদলের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হতে পারে বলে বলা হয়েছে।

রং বদল ঠেকাতে ভারত সরকার এর আগে তাজমহলের কাছাকাছি হাজারেরও বেশি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছিল; এরপরও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

তাজমহলের সাদা মার্বেল দিন দিন ঔজ্জ্বল্য হারাচ্ছে বলে দাবি পরিবেশবাদীদের।

স্থাপনা সংশ্লিষ্ট যমুনা নদীর নর্দমায় আকৃষ্ট কীটপতঙ্গের বর্জ্য তাজমহলের দেয়ালের স্বাভাবিক রং ও অবস্থার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে বলেও ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞের।

প্রায় চারশ বছর আগে আগ্রায় মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজের সমাধিস্থলে এ প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। বিশ্ব পর্যটনের অন্যতম শীর্ষ আকর্ষণ তাজমহল দেখতে কমবেশি ৭০ হাজার মানুষ প্রতিদিন আসেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তাজমহলের এ দূষণ নতুন নয়; গত দুই দশকে বেশ কয়েকবারই কাদামাটি ব্যবহার করে এর মার্বেল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারপরও সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে বলে শঙ্কিত পরিবেশবাদীরা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তাজমহলকে ফের কাদামাটির গোসল দেওয়া শুরু হয়। অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহার করে শ্রমিকরা তাজমহলের দেয়ালের গায়ে ছক কেটে কেটে সেখানে কাদামাটির পেস্ট ‘ফুলারস আর্থ’ বসাচ্ছেন, যা ধুলা-ময়লা, গ্রিজ এবং কীটপতঙ্গ ও প্রাণীর মল শোষণে কার্যকর।

পরে ওই কাদামাটি ধুয়ে ফেলা হবে, যার সঙ্গে দেয়ালের ধুলা-ময়লারও চলে যাওয়ার কথা। চলতি বছরের শেষভাগ পর্যন্ত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাজমহলের দূষণ নিয়ে আগামী ৯ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য