গত বছর বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় এক শতাংশ বাড়লেও বিগত দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের সামরিক ব্যয় গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমিয়েছে রাশিয়া। বুধবার সুইডেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম পিস রিচার্স ইনস্টিটিউট (সিপরি) জানিয়েছে গত বছর দেশটি সামরিক ব্যয় কমিয়েছে ৬ হাজার ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় বেড়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার নয়শো কোটি মার্কিন ডলার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ব্যয় কমানোর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশটির সামরিক সরঞ্জাম আহরণ ও অভিযানের ওপর। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব খবর জানিয়েছে।

সামরিক ব্যয় সঙ্কোচন করে সামাজিক অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে রাশিয়া
১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতা গ্রহণের পর এবারই প্রথমবারের মতো সামরিক ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। অভ্যন্তরীণ ঋণে জর্জরিত হয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন পুতিন। পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংকট কাটানোর পাশাপাশি সামরিক ব্যয় বাড়াতে থাকেন তিনি। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়ায় অভিযান ও সিরিয়া যুদ্ধে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার পরও গত কয়েক বছরে সামরিক ব্যয় সঙ্কোচন করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার ব্যয় পরিকল্পনার উদ্ধৃতি দিয়ে সিপরি’র অস্ত্র ও সামরিক ব্যয় কর্মসূচির সিনিয়র গবেষক সিমন ওয়েজমেন বলেছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটি ২০১৭ সালের সমান অথবা কোনও কোনও ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতিজনিত কারণে বাড়ানো হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমানো হবে।

ওয়েজমেন রয়টার্সকে বলেন, ‘পরিস্কারভাবে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও অভিযানের ক্ষেত্রে। এসব ক্ষেত্রেই দ্রুততম সময়ে ব্যয় কমানো যায়।’ ব্যয় কমানোয় ইতিমধ্যেই সামরিক ব্যয়ের তালিকায় চার নম্বরে নেমে গেছে রাশিয়া।

ওয়েজমেন বলেন, নিশ্চিতভাবে রাশিয়া নিজেকে এখনও অন্যতম বড় সামরিক শক্তি হিসেবে দেখাতে চায়। আর তা দেখাতেই উদাহরণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে সিরিয়ায় অভিযান আর আটলান্টিক মহাসাগরে নৌবিাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে। কিন্তু আমি নিশ্চিত এসব অভিযান পরিচালনার ব্যয়ও বিপুল পরিমাণে সঙ্কুচিত করা হয়েছে।

পশ্চিমা অবরোধ ও বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি গত দুই বছর ধরে ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছে। তেলের দাম বাড়ায় গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। সরকার দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করলেও দেড় শতাংশ অর্জিত হয়েছে। রফতানি নির্ভর অর্থনীতি কম মূল্যের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে। এমন অবস্থায় নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার মতো সামাজিক অবকাঠামোগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। দেশটির কোনও কোনও কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরণের উদ্যোগে অর্থ ছাড় করতে সামরিক ব্যয় কমানো হয়েছে। এ বছরের মার্চে ক্রেমলিন জানায় পরবর্তী পাঁচ বছরে সামরিক বরাদ্দ জিডিপির (গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাকশন) তিন শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পারে রাশিয়া।

রাশিয়া ব্যয় কমালেও বৃদ্ধি বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের ৩৫ শতাংশ একাই করে থাকে দেশটি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ব্যয় অপরিবর্তিত রাখলেও এই বছরে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যয় বাড়াচ্ছে আরেক বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বি চীনও।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য