লেখকঃ মোঃ রজব আলী (উপ-সাম্পাদকিয়)- সম্প্রতিক সময়ে দুটি ঘটনা মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে গেছে একটি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব বাসের চাপায় এক হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়া, দ্বিতীয়টি হচ্ছে গৃহপরিচারিকা রোজিনা বাসের চাকায় এক পাঁ হারানোর পর চিকিৎসাীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়া।

আমি চিকিৎসার বিষয়ে বলছিনা, বলছি দুটি ঘটনায় ছিল সড়ক দুর্ঘনা। এর আগেও সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক প্রখ্যাত-বিখ্যাত ব্যাক্তিরা প্রায় হারিয়েছে। মীশুক-মনির ঘটনা উল্লেখ যোগ্য একটি ঘটনা। এছাড়া মীরসরাইলে একই ঘটনায় বহু শিশু শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনাটি সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রতিদিনে ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা। খবরের কাগজে চোখ দিলে প্রথমে চোখের সামনে ভেষে আসে সড়কে কয়জনের প্রাণ ঝড়ে গেল এই খবর। অথ্যাৎ সড়ক দুর্ঘনা এখন আর নতুন কিছু নয়, খবরের কাগজ গুলোর নিত্যদিনের একটি খবরের অংশ।

আমরা সকলে জানী একটি সড়ক দুর্ঘটনা মানে একটি প্রাণের অবসান ঘটা, একটি পরিবার পথে বসে যাওয়া, একটি স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সম্প্রতিক অনেক সভা-সেমিনার হচ্ছে, বে-সরকারী টেলিভিশন গুলোতে কথা হচ্ছে, কিন্তু তাতে কি সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে? নিশ্চয় নয়।

রাস্তায় সড়কে সুধু দর্ঘটনায় ঘটে না, রাস্তার জানযট সারাদেশকে অচল করে দিয়েচে, প্রতিদিনে জানযটের মধ্যে পড়ে গিয়ে কত কর্মঘন্টা শেষ হয়ে যায়, তার কোন কিসেব নাই। উত্তর অঞ্চল থেকে বাস যোগে ৭ ঘন্টায় রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার সম্ভাব হলেও জানযটে পড়ে কোন কোন দিন ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত লেগে যায়। রাস্তা যেন মরণ ফাঁদ কিংবা বিড়ম্বনা। কেউ সড়ক পথে যাত্রা শুরু করলে তার স্বজনেরা এক অজানা ভয়ে সারাক্ষন আতঙ্কিত থাকে।

আবার কিছু বিষয় জাতিকে অবাক করে দেয়, যখন দেখা যায়, সড়কে বে-পরওয়া গাড়ী চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার পরেও, চালকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে না মমের্, অবরোধ ধর্মঘট হয়। এদের পক্ষে আবার দেখি দেশের বড়বড় মন্ত্রীরা অবস্থান নেয়। এতে জাতি হতবাক হয়ে যায়।

তবে একটি বিষয সকলে একমত যে রাস্তায় প্রাণহানী বন্ধ করতে হবে, বন্ধ করতে হবে সড়ক দুর্ঘটনা। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা এমনিতে বন্ধ হবে, নিশ্চয না, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হলে প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে, সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে কেন?। আমি এর পুর্বেও বলেছি, এখনও বলছি, আমরা সকলে কম-বেশি জানি, যে ৪টি ”অ” অপব্যবহারের কারনে সড়ক দুঘটনা ঘটে। (১) অশতর্ক্য ভাবে গাড়ী চালা, অতিদ্রুত চলা, অতিরিক্ত মালামাল বহন করা ও অতিক্রম করা। এই চারটি কাজ করে গাড়ীর চালক। এর সাথে আরো কিছু বিষয় যোগ আছে, তা হল আমাদের দেশের অনুপোযোগী রাস্তা ও রাস্তাার নিয়ন্ত্রন না থাকা।

প্রিয় পাঠক আপনারা নিশ্চয় রাস্তায় চলাচল করতে দেখেছেন, আমাদের মহাসড়ক গুলোর কোন নিয়ন্ত্রন নাই। চালকেরা তাদের খেয়াল খুশিমত গাড়ী চালায়। গাড়ী চালকেরা রাস্তায় প্রতিযোগীতায় নামে কে কাকে অতিক্রম করবে, লাইন ক্রস করে গাড়ী চালার কারনে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে ও জানযটের সুষ্টি হয।

পুথিবীতে এমন কোন দেশ পাওয়া যাবে না, যে রাস্তা গুলো পুলিশের নিয়ন্ত্রনের বাহীরে আছে। রাস্তার আইন ভঙ্গকরে গাড়ী চালালে, সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ওই গাড়ীকে আটক করে সাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে। কিন্তু কেবল মাত্র আমাদের দেশে রাস্তায় গাড়ী চলে, চালকের খেয়াল খুশিমত। রাস্তাগুলোর যদি নিয়ন্ত্রন পুলিশের হাতে থাকতো, তাহলে রাস্তায় গাড়ী চালকেরা নিজেদের খেয়াল খুশিমত গাড়ী চালাতে পারতো না, এতে রাস্তায় জানজট কমে যেত ও সড়ক দুর্ঘটনাও কমে যেত।

আবার হরহামেশা খবর হয়-দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখো-মুখি সংঘর্ষে একাধিক নিহত হওয়ার খবর, বা ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি ও হওয়ার খবর। এর কারন হচ্ছে, আমাদের দেশের একই রাস্তায় বিপরিত দিক দিয়ে গাড়ী চলাচল করে। এখন পর্যন্ত আমাদের মহা-সড়ক গুলো এক মুখি চলাচল করার মত হয়নি। এরপর আছে অবৈধ্য গাড়ী চালক। গেল বছরে বিআরট্এি’র হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে মটর যানের সংখ্যা ৫৮ লাখ। সেখানে বৈধ্য চালক আছে মাত্র ২৭ লাখ।

এই হিসেবে অধিকাংশ মটরযান চালায় অবৈধ্য চালক। গত কয়েক দিন পুর্বে একটি বে-সরকারী টেলিভিশনের খবরে দেখলাম, খোদ রাজধানী ঢাকা শহরে গাড়ী চালাচ্ছে অবৈধ্য ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকেরা। তাহলে মফস্বল শহরের কি অবস্থা এখানে অনুমেনয় হয়। সুধু এখানেই শেষ নয়, বৈধ্য গাড়ী চালক সৃষ্টি হওয়ার মত কোন উল্লেখ যোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হযনি আজও।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে, তা হচ্ছে সড়ক গুলোর নিয়ন্ত্রন পুরোপুরি পুলিশের হাতে দিতে হবে, এজন্য প্রযাপ্ত পুলিম রাস্তায় রাখতে হবে, যেন রাস্তার লাইন ক্রোস করার সাথে সাথে পুলিম ধরতে পারে ও ওই চালকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। প্রযোজনে রাস্তা নিয়ন্ত্রনের জন্য নতুন আইন তৈরী করতে হবে।

আমি প্রথমে যে বিষযটি উপস্থাপন করেছি যে ৪টি ”অ” অপব্যবহার, চালক করে থাকে অশতর্ক্য ভাবে গাড়ী চালা, অতিরিক্ত মালামার বহন করা, অতিদ্রুত চলা কিংবা অতিক্রম করা এই কাজ গুলো গাড়ী চালকেরা করতে পারবে না। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাওয়ার পাশা-পাশি, সড়কে জানযটও কমে যাবে।

এছাড়া বৈধ্য ও দক্ষ চালক তৈরী করতে প্রতিটি জেলা শহর কিংবা কম পক্ষে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে ড্রাইভিং প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, সেই প্রশিক্ষন কেন্দ্রের সনদ ছাড়া ড্রাইভং সনদ প্রদান করা বন্ধ করতে হবে। এতে করে আমরা প্রশিক্ষিত ও দক্ষ গাড়ী চালক পাব। এরপর আমাদের মহা-সড়ক গুলোর প্রস্থ বাড়ীযে এক মুখি রাস্তা করলে সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যর কোঠায় নেমে আসবে বলে আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি।

আসুন আমরা রাস্তায় মৃত্যুর মিঠিল রোধ করতে, এই কাজ গুলো করর জন্য এক সাথে কথা বরি, এটাই হবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার একমাত্র উপায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য