ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে প্রতিদিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানর সাথে চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলন হচ্ছে না। পাথর উত্তোলনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাষ্ট কনসোডিয়াম (জিটিসি) এর সাথে ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের চুক্তি থাকলেও, সাড়ে ৪ বছরে পাথর উত্তোলন হয়েছে মাত্র ১৯ লাখ টন।

পাথর উত্তোলনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি বলছে, উৎপাদন ডন্ত্রের অভাবে চুক্তি ম্যায়াদের অর্ধেক সময় পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায়, চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলন অসম্ভাব হয়ে পড়েছে।

খনি কর্তৃপক্ষ বলছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র সাথে ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের লক্ষমাত্রা থাকলেও, এপ্রিল/২০১৮ পর্যন্ত পাথর উত্তোলন হয়েছে মাত্র ১৯ লাক টন। চুক্তির ম্যায়াদ আছে আরমাত্র ডের বছর। খনিটিেিত প্রতিদিনের পাথর উত্তোলনের সক্ষমতা সাড়ে ৫ হাজার টন, এই কারনে চুক্তি ম্যায়াদের মধ্যে বাকি ৭৩ লাক টন পাথর উত্তোলন করা অসম্ভাব হয়ে পড়েছে। খনি কতৃপক্ষ বলছেন চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলন না হলে খনিটি আবারো লোকশানের মুখে পড়বে।

জিটিসি মহা ব্যবস্থাপক জামিল আহম্মেদ বলছেন উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে চুক্তির ম্যায়াদের অর্ধেক সময় পাথর উত্তোলন বন্ধ চিল। চুক্তির ম্যায়াদ বন্ধ থাকা সময (দুই বছর) বৃদ্ধি করা হলে চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলন করা হবে। জিটিসি আরো বলেন চুক্তির ম্যায়াদ বৃদ্ধি করার জন্য পেট্রবাংলা গত ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ঠ সুপারিশ করলেও, এখন পর্যন্ত চুক্তি ম্যায়াদ বৃদ্ধি করার কোন পদক্ষেপ নেয়নি মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ কর্তৃপক্ষ।

খনিসুত্রে জানাগেছে দেশের একমাত্র পাথর খনি মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে গত ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জার্মানিয়া ট্রাষ্ট কনসোডিয়াম (জিটিসি) সাথে গড়ে প্রতিদিন ৪২০০ টন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে, ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী গত ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী থেকে জিটিসি উৎপাদন কাজ শুরু করে এবং প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার টন পাথর উত্তোলন করতে থাকে। কিন্তু উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালে বিদেশ থেকে উৎপাদন যন্ত্র আমদানী করে ভূ-গর্ভে নতুন স্টোপ তৈরী করে। নতুন স্টোপ তৈরী করে ২০১৭ সালের মে মাস থেকে আবারো পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। বর্তমানে প্রতিদিনের পাথর উত্তোলন প্রায় ৫ হাজার টন।

খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি জানায়, জিটিসি উৎপাদনের দায়ীত্ব নেয়ার পর থেকে প্রতিদিনে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করে আসচ্ছে। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সময়মত উৎপাদন যন্ত্র সরবরাহ না করায় ও খনিজ যন্ত্র আমদানীর ক্ষেত্রে সময়মত এলসি খুলে না দেয়ায়, খনিটিতে দুই বছর উৎপাদন বন্ধ ছিল। খনিটিতে উৎপাদন বন্ধ না থাকলে, ওই দুই বছরে আরো ৩৬ লাখ টন পাথর উত্তোলন হত। এতে করে খনিটিতে বর্তমান পাথর উত্তোলন হত প্রায় ৬০ লাক টন। যা আগামী ডের বছরে লক্ষমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভাব। এই কারনে তারা পাথর উত্তোলন চলমান রাখতে চুক্তির ম্যায়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন।

এই বিষযে এমজিএমসিএল এর একাধীক পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা এই বিষযে সরসরি কোন মতামত না দিয়ে বলছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলন না হলে, খনিটি আবারো লোকশানের মুখে পড়বে। তবে চুক্তির ম্যয়াদ বৃদ্ধিকরা হবে কি না? এই বিষয়ে কেউ কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

মধ্যপাড়া পাথর খুনটিতে গত ২০০৭ সাল থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হলেও, প্রতিদিনে পাথর উত্তোলন হত মাত্র এক হাজার থেকে এক হাজার ৫শ টন। এতে খনিটি লোকশানের মুখে পড়েছিল। কিন্তু জিটিসি’র সাথে চুক্তি হওয়ার পর, জিটিসি প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন শুরু করে। এতেকরে খনিটি লোকশানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের মুখ দেখা শুরু করেছে। এই অবস্থায় যদি আবারো পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে খনিটি আবারো লোকশানের মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য