রংপুরের মিঠাপুকুরে সুলতানা খাতুন নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক আসাদুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার বেলা ১২টায় অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের (৪০) উপস্থিতিতে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক যাবিদ হোসেন এ রায় দেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শাল্টিগোপালপুর ইউনিয়নের বান্দারপাড়া গ্রামের সুলতান হোসেনের মেয়ে সুলতানা খাতুন প্রতিবেশি আলেফ উদ্দিনের বাড়িতে মাঝেমধ্যে গৃহস্থালীর কাজ করতেন। এর সুবাদে আলেফ উদ্দিনের ছেলে আসাদুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন সুলতানাকে।

একপর্যায়ে সুলতানা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার পরিবার থেকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু আসাদুলের পরিবার এতে রাজি না হলে ২০০৭ সালের ৩ জুন মিঠাপুকুর থানায় ধষর্ণ মামলা দায়ের করেন সুলতানা।

দীর্ঘ ১১ বছর মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর সোমবার এই মামলার রায়ে অভিযুক্ত আসাদুলের যাবজ্জীবন কারাদ- ও দুইলক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদ- এবং ছেলে সিয়াম বাবুর পিতৃস্বীকৃতির রায় দেন বিচারক। সেইসঙ্গে সিয়াম বাবু প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত রাস্ট্র তার যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন বলেও জানান বিচারক।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক হাসনাঈন। এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক।

এই মামলায় বাদীপক্ষকে সহায়তা করেন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ এর ‘নারী অধিকার ইউনিট।’

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আরডিআরএস এর সিনিয়র নারী অধিকার কর্মকর্তা শামসেয়ারা বিলকিছ বলেন, এই মামলায় বাদী পক্ষকে সহায়তা করতে গিয়ে তাকেসহ তার মেয়েকে অপহরণ করার ও নানাভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছিল। ১১ বছর পর ধর্ষকের যাবজ্জীবন ও সন্তানের পিতৃস্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক হাসনাঈন বলেন, এ রায়ের মধ্যে তার মক্কেল ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য