আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি :লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্ল্যারহাটে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নিম্ন মানের বিস্কুট। বিস্কুট গুলো ঠিক কোন পরিবেশে কি ভাবে তৈরি হচ্ছে তা সাধারন মানুষের বোধগম্য নয়। খোলা বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীন ও স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর এসব বিস্কুট অসচেতন গ্রাহকেরাই কিনে থাকেন। নিম্ন শ্রেনীর গ্রাহকেরা এর ক্রেতা বিধায় অনেকেই খবর রাখেন না। এগুলো কি দিয়ে তৈরী এবং কোথায় হতে আসে এসব বিস্কুটের নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যাগ ও বস্তায় ভরে হাট বাজার ও রাস্তার ধারে উম্মুক্ত স্থানে ধুলোবালিতে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে বিস্কুটের গুনাগুন যাচাই না করে কমদামে বেশি বিস্কুট পাওয়ায় সাধারন মানুষ এই বিস্কুট কিনতে হুমরি খেয়ে পড়েছে। তাতে করে এলাকার সাধারন মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব বিস্কুট স্বাস্থ্যকর নাকি
অস্বাস্থ্যকর জানেন না এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভুল­ল্যারহাট এলাকায় রয়েছে ১৫ থেকে ২০ টির মতো ভাসমান খোলা বিস্কুটের দোকান । তা ছাড়া ওই বাজারে “মেসার্স মা বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ” নামে বিস্কুটের আড়ৎ রয়েছে। অত্র আড়তের প্রোপাইটার মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ লাবলু মিয়া ও মোঃ জহির ইসলাম নামে তিনজন। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এসব খোলা বিস্কুট বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা ঐ সকল গুদাম থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্কুট কিনে বিভিন্ন হাট বাজার এবং ভ্যানে করে বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে দেদারসে বিক্রি করছে।

এ সকল বিস্কুট ঠিক কবে উৎপাদন করা হয়েছে মেয়াদ কবে শেষ হবে তার কিছুই বস্তার গায়েও উলে­খ নেই। আর বিএসটিআই’র নামে যে সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারও কোন অনুমোদন নাই। বিশেষ করে ঐ বাজারটিতে চরঅঞ্চলের আগত যাত্রীরা কোন কিছু যাচাই বাছাই না করে খোলা বিস্কুটের দোকানে গিয়ে বিস্কুট ক্রয় করে। প্রতি কেজি বিস্কুটের মুল্য ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এ সব বিস্কুট কোন বেকারী কোথায় থেকে আসে জানতে চাইলে কয়েকজন বিক্রেতা জানান।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক ভর্তি করে টোস্ট, চিনি টোস্ট, ড্রাই কেক, পাইন্ড বিস্কুট, বেলা বিস্কুট, সুপার বিস্কুট, মিস্টি বিস্কুট, বাদামী মিস্টি বিস্কুট, সলটেজ বিস্কুট, বিভিন্ন ধরনের ঝাল ও মিষ্টি চানাচুর সহ বড় বড় পলিথিনের ব্যাগভর্তি আসে বলে জানান কয়েকজন বিস্কুট বিক্রেতা অনুমোদন ছাড়া খাবার দ্রব্য কি ভাবে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রকাশ্যে বিক্রয় হয়।

সরেজমিনে আরো দেখাগেছে, জেলার বিভিন্ন বাজারের মধ্যে চেীধুরীরহাট,কালীগঞ্জ, তুষভান্ডার, কাকিনা, বানীনগর, কাজীরহাট, শুকানদিঘী, চলবলা, শিয়ালখোওয়া, চন্দ্রপুর, বলাইরহাট, দলগ্রাম,কালভৈরবসহ বিভিন্ন রাস্তায় এবং দোকানের পাশে এ সব বিস্কুট অহরহ বিক্রি হতে দেখা যায়। বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও তৈরি হয় এ সব ভেজাল নিম্নমানের বিস্কুট, চানাচুর, যা জনস্বাস্থ্যর জন্য মারাত্মক হুমকি মুখে।

এ বিষয় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য