কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ মানুষের দুর্দশা লাঘবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই খুলে দেয়া হয়েছে ধরলা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় ধরলা সেতু বা এলাকাবাসীর প্রস্তাবিত ‘ফুলবাড়ী সেতু’।

শনিবার বিকেল ৫ টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জাফর আলী এবং জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন ফুলবাড়ী উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় ধরলা সেতুর পুর্ব প্রান্তে লোহার গেটের তালা খুলে জনসাধারণের জন্য সাময়িকভাবে উন্মুক্ত করে দেন। এসময় হাজার হাজার উৎসুক সাধারণ মানুষ ধরলা সেতুতে উপস্থিত হয়।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মেহেদুল করিম, সিভিল সার্জন ডা: আমিনুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যন এ্যাড. মতিয়ার রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার প্রমূখ।

কাংখিত এ সেতুটি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ২০ লাখ মানুষের স্বপ্ন সত্যি হলো। ঢাকা ও বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা সহজ হবে। কমে যাবে ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার সড়ক পথ।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, আমি জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি দেখে সেতুটি যাতায়াতের জন্য আপাতত খুলে দেয়ার অনুমতি পেয়ে শনিবার এ সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছি। এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়। প্রধানমন্ত্রী রংপুরে সফরে আসলে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী বলেন, সেতুটি প্রবেশ দ্বার খুলে দেওয়ার পরে পিছিয়ে পড়া ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী অঞ্চলের সাধারণ মানুষজন উন্নয়নের আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হলো। পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ধরলা সেতুর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লালমনিরহাটের কুলাঘাট ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ধরলা নদীর ওপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডের দ্বিতীয় ধরলা সেতু বা এলাকাবাসীর প্রস্তাবিত ‘ফুলবাড়ী সেতু’র ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্ববধানে নির্মিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দীর্ঘতম এই সেতুটি নির্মানের জন্য এলজিইডি সিমপ্লেক্স এবং নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপের সাথে যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০১৪ সালে। সেতুটির নদী শাসন, এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ৫৮ পয়সা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য