ধর্ষণের অভিযোগ থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে খালাস দেওয়ার পর স্পেনের পাম্পলোনা শহরের রাস্তায় তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ দেখাচ্ছে হাজারো আন্দোলনকারী।

ওলফ প্যাক নামে একটি গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই পাঁচ ব্যক্তি যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হলেও তাদের ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

স্পেনের আইনে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন আলাদা হওয়ায় আদালত হোসে এঞ্জেল প্রেন্দা, আন্তোনিও ম্যানুয়েল গেরেরো, এঞ্জেল বোজা, আলফোনসো হেসুস কাবেজুয়েলো ও হেসুস এসকুদেরোরকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাম্পলোনার এ ধর্ষণ মামলা স্পেনজুড়ে তীব্র হৈচৈ ফেলে দিয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আদালতের রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবারও মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়াসহ কয়েক ডজন শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

১৮ বছর বয়সী এক নারীর ওপর ২০১৬ সালের জুলাইয়ে পাম্পলোনার সান ফেরমিন ফেস্টিভালে হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লো মানাদার (ওলফ প্যাক) সদস্য ওই অভিযুক্তরা হামলাটির ভিডিওও করেছিলেন।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, পাম্পলোনার ষাঁড়দৌড়ের উৎসবের মধ্যে ভোরের দিকে নির্জন এক স্থানে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ওই পাঁচ ব্যক্তি তরুণীটির ওপর হামলে পড়ে, কাপড়চোপড় খুলে ফেলে তার সঙ্গে অরক্ষিত উপায়ে যৌন সংসর্গও ঘটায়। পরে আক্রান্ত নারীর ফোনও চুরি হয়ে যায়।

পুলিশ পরে ওলফ প্যাক গ্রুপের ওই ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ২০১৬ সাল থেকেই তারা কারাগারে আছেন।

হামলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদালত আক্রান্ত নারীকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফোন চুরির দায়ে আদালত আধাসামরিক পুলিশ বাহিনী গার্দিয়া সিভিলের সদস্য গেরেরাকে অতিরিক্ত ৯০০ ইউরো জরিমানাও করেছে।

সান ফেরমিন ফেস্টিভালে হওয়া ঘটনার পুরোটা সময় চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন ১৮ বছরের ওই তরুণী, যাকে যৌন ক্রিয়ায় মৌন সম্মতি দাবি করে অভিযুক্তদের খালাস চেয়েছিলেন তাদের আইনজীবীরা।

অপরদিকে দায়ীদের ২০ বছরের কারাদণ্ড চেয়ে কৌঁসুলিরা বলেছেন, ঘটনার আকস্মিকতায় ট্রমায় আক্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন তাদের মক্কেল, যে কারণে তার চোখ বোজা ছিল।

নিপীড়নের শিকার নারীটির পরিচয় গোপন রাখতে পাঁচমাস অতি গোপনীয়তার মামলাটি বিচারকাজ হয়। আদালত পরে অভিযুক্তদের যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করলেও ধর্ষণের দায় থেকে মুক্তি দেন।

রায়ের পর থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে স্পেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় ‘হ্যাশট্যাগ সুয়েন্তালো’, যাতে ব্যবহারকারীরা আক্রান্ত নারীর সমর্থনে নিজেদের ওপর হওয়া নিপীড়নের কথা বলতে শুরু করে।

পুলিশ বলছে, শনিবার পাম্পলোনায় হওয়া বিক্ষোভে ৩০ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী অংশ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সান ফেরমিনের যে রাস্তাগুলোতে বার্ষিক ষাঁড়দৌড়ের অনুষ্ঠান হয় সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে সেখানেও প্রতিবাদ দেখিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বলছেন, কেবল পাম্পলোনার এ মামলা নয়, তাদের ক্ষোভ পুরো আইনী ব্যবস্থার ওপর-ই।

“বিচার ব্যবস্থা এখনো পুরুষতান্ত্রিক; এটি আমাদের ওপর দায় চাপায় এবং আমরা অরক্ষিত,” স্থানীয় রেডিও স্টেশন আরটিভিই-কে এক নারী বিক্ষোভকারী এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাস্ক কাউন্টির হোন্দারিবিয়া কনভেন্টের একদল নানও আদালতের রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।

স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ টুইটারে লিখেছে, ‘নো ইজ নো’। জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনীয় একটি নম্বর সংযুক্ত করে তারা বলেছে, “আমরা সবসময়ই আপনাদের সঙ্গে আছি।”

বিক্ষোভের মধ্যেই স্পেনের সরকার যৌন অপরাধের শ্রেণিবিন্যাস পুনরায় খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে। আক্রান্ত নারী ও যৌন নিপীড়নে অভিযুক্তরা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য