উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রটি মে মাসের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, পুঙ্গি রি কেন্দ্রের কার্যক্রম সবার সামনেই বন্ধ হবে; তা পর্যবেক্ষণ করতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

শুক্রবার পানমুনজমের শীর্ষ সম্মেলনে দুই কোরিয়ার নেতারা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণার প্রেক্ষিতেই কিম এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে ধারণা বিবিসির।

উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষাগার হিসেবে পরিচিত পুঙ্গি রি কেন্দ্রটি দেশটির উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত।

২০০৬ সালের পর গত এক যুগে এ কেন্দ্র থেকেই অন্তত ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং।

পুঙ্গি রি-র কাছে মন্তাপ পাহাড়ের নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে এসব পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হতো বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে হওয়া সর্বশেষ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষার পর কেন্দ্রটির আশপাশে বেশ কয়েকটি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়।

পুঙ্গি রি সংশ্লিষ্ট পাহাড়ের অভ্যন্তরের কিছু অংশ ধসে পড়েছে বলে ভূতত্ত্ববিদরা তখন থেকেই আশঙ্কা করছিলেন।

উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি ও বিভিন্ন সরঞ্জামের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের পর তারা বলেছিলেন, ধসের কারণে পারমাণবিক কেন্দ্রটি সম্ভবত এর ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়ে ফেলেছে।

দুই কোরিয়ার শীর্ষ বৈঠকের আগে গত সপ্তাহে আচমকা এক ঘোষণায় কিম এ কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। মুনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধেরও আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র ইয়ুন ইয়ং চ্যান বলেছেন, মে মাসের মধ্যে পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করার কথা ব্যক্ত করেছেন কিম।

“স্বচ্ছতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে এই প্রক্রিয়া প্রকাশে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের দ্রুতই আমন্ত্রণ জানানো হবে বলেও উত্তরের নেতা জানিয়েছেন,” বলেন ইয়ুন।

দক্ষিণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে উত্তর কোরিয়া তাদের ‘টাইম জোন’ বদলানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

তবে এ বিষয়ে পিয়ংইয়ং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ।

শীর্ষ বৈঠকের কয়েক মাস আগেও সিউলের প্রতি যুদ্ধংদেহী হুমকি দিয়ে আসছিল পিয়ংইয়ং। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকের পর সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।

ওই অলিম্পিকে কিমের বোন ইয়ো জং দক্ষিণের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে দক্ষিণের একটি প্রতিনিধিদল উত্তর কোরিয়ায় যায়। সেখান থেকে তারা কিমের একটি আমন্ত্রণ ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেও পৌঁছে দেন।

অভূতপূর্ব ওই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রশাসনকে উত্তরের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বলেন।

আগামী মাসের শেষে কিংবা জুনের শুরুতে কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের ওই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শনিবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত করতে উত্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে তার ‘তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে’ বৈঠক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য