মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল মহিলা ডিগ্রী কলেজে অবৈধ্যভাবে রসায়ন বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগ দিয়ে বেতন-ভাতা স্থগিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক আকবর আলীর মৃত্যুর পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলে সরকারিভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ তফিল উদ্দীন এই সুযোগে গভর্ণিং বডির সদস্যগণের নিয়োগ সংক্রান্ত সভা ও সহি স্বাক্ষর ছাড়াই রসায়ন বিষয়ে মোঃ তবিবর রহমান নামে একজনকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অবৈধ্যভাবে নিয়োগ দিয়ে বেতন-ভাতার জন্য গত মার্চ ২০১৮ মাসের এমপিও কপিতে নাম সংযোজন করেন, যার ইনডেক্স নং ৩০৯৬৪৯৮।

এরই প্রেক্ষিতে কলেজের শিক্ষকগণ গত-২৪-০৩-২০১৮ ইং তারিখে ক্লাশ বর্জন কর্মসুচি পালন করে এবং এই অবৈধ্য নিয়োগের প্রতিবাদ জানালে ঐ দিনই কলেজের সভাপতি সেলিনা জাহান লিটা এমপি কলেজে এসে শিক্ষকদেরকে নিয়ে এক সভায় মিলিত হয়। উক্ত সভায় অধ্যক্ষ জানান ঐ ব্যক্তি কলেজে আসবে না এবং আমি তার নিয়োগ বাতিল করবো। অপরদিকে সভায় সভাপতি সেলিনা জাহান লিটা এমপি এই অবৈধ নিয়োগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত দিলে শিক্ষকগণ শান্ত হোন এবং কর্মসূচি স্থগিত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ ঐ শিক্ষককে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গোপনে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছে। সে কোন দিনই কলেজে আসেনি, শিক্ষকগণের হাজিরা খাতায় তার সহি স্বাক্ষর নাই এবং কোনদিনই পাঠদানে অংশ গ্রহণ করেনি।

প্রভাষক আকবর আলীর মৃত্যুরপর রসায়ন বিষয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে গেস্ট শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। যদি শিক্ষকই নিয়োগ দিয়ে থাকেন, তাহলে গেস্ট শিক্ষক দিয়ে কলেজের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কেন পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে?

কলেজের গভর্ণিং বডির অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সুভাশ চন্দ্র ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য লুৎফর রহমান জানান, আমরা এই নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানিনা, তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন দিন সহি স্বাক্ষর করি নাই। এমনকি কোথায়, কখন এই নিয়োগ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা আমরা জানিনা।

এমনকি ডিজির প্রতিনিধি, বিষয় বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি কে ছিলেন তাও জানিনা। গভর্ণিং বডির বিগত মেয়াদের শিক্ষক প্রতিনিধি প্রভাষক সাদেকুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, জায়ন উদ্দীন, জুলফিকার আলী, পারুল বেগম, রাশেদা বেগম এবং বর্তমান শিক্ষক প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ঐ শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য