যুক্তরাষ্ট্রে রোমেইন লেটুস পাতা থেকে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিনে এতে আক্রান্তের হার দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২টি অঙ্গরাজ্যে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ৯৮ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ সংক্রমণে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যু না হলেও অসুস্থ ৪৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের’ (সিডিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জনের কিডনি কাজ করছে না।

২০০৬ সালে স্পিনাচের মাধ্যমে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ায় ২০০ জন সংক্রমিত হয়েছিলেন। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ঘটনা।

অ্যারিজোনার ইউমাতে উৎপাদিত লেটুস পাতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সিডিসি কর্মকর্তারা। এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘উৎপাদনের স্থান সম্পর্কে জানা না থাকলে, ভোক্তাদের রোমেইন লেটুস পাতা না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।’ রোমেইন লেটুসের সম্পূর্ণ অংশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে আরও জানানো হয়েছে, রোমেইন লেটুসের সালাদও বর্জন করা উচিত ভোক্তাদের।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই মহামারিতে শিগা-টক্সিন উৎপন্নকারি ই-কোলাই ও১৫:এইচ৭ জড়িত। সিডিসি জানিয়েছে, ‘এবার ব্যাকটেরিয়াটি যে শিগা-টক্সিন তৈরি করছে তা সংক্রমণের শিকার মানুষকে বেশি অসুস্থ করে দিচ্ছে। ফলে এবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেক বেশি মানুষ।’

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সাধারণত ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পেটে যাওয়ার তিন থেকে চারদিনের মধ্যে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়রিয়া, বমি ও প্রচণ্ড পেট ব্যথ্যার মতো লক্ষণ দেখা যায়। এখন পর্যন্ত অ্যারিজোনার ইউমার হ্যারিসন খামারকে ই-কোলাইযুক্ত ব্যাকটেরিয়ার উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই এলাকার আরও দুই ডজন খামার তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য