ওমান উপসাগরে অক্সিজেন নেই এমন ‘মৃত অঞ্চলের’ আয়তন দিন দিন বাড়ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

পানির নিচে এক হাজার মিটার গভীরেও কাজ করতে সক্ষম এমন রোবট সী-গ্লাইডার ব্যবহার করে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া (ইউইএ) আরব সাগরের এই অংশে স্কটল্যান্ডের চেয়েও বড় এলাকাজুড়ে অক্সিজেনের কমে আসার নজির দেখতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ বিষয়টি জানিয়ে ‘মৃত অঞ্চলজুড়ে’ মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর বাস্তুসংস্থান ধ্বংস এবং পরিবেশ বিপর্যয়েরও আশঙ্কা করা হয়েছে।

সমুদ্রের ওপর খাদ্য ও জীবিকার জন্য নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের বিপদের পরিমাণও এর ফলে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়বে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

জলদস্যূতা ও ভৌগোলিক কারণে বিপজ্জনক ওমান উপসাগরের ওই এলাকা থেকে এর আগে তথ্য নেওয়া সম্ভব ছিল না। ওমানের সুলতান কাবুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ইউইএ সেখান থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করে।

“সী-গ্লাইডারগুলো সেখানে সামান্য হলেও অক্সিজেন পাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু দেখা গেল স্কটল্যান্ডের চেয়েও বড় বিশাল অংশ প্রায় অক্সিজেন শূন্য,” বিবৃতিতে বলে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই আরব সাগরের এই অংশের ‘মৃত অঞ্চল’ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ঘন, বলছেন গবেষক দলের প্রধান ইউইএ-র স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের বাস্তিন কোয়েস্তা।

“উষ্ণ পানি কম অক্সিজেন ধারণ করে, অন্যদিকে কৃষিতে ব্যবহৃত সার এবং স্থলভাগের সব নর্দমা সমুদ্রে এসে পড়ছেই। মৃত অঞ্চল বলতে আমরা বুঝি অক্সিজেন বর্জিত এলাকা। সমুদ্রে এই এলাকাগুলো ‘অক্সিজেন মিনিমাম জোন’ নামেও পরিচিত। সাধারণত পৃথিবীর কয়েকটি এলাকায় ২০০ থেকে ৮০০ মিটারে গভীরে এ ধরনের অঞ্চলের সন্ধান পাওয়া যায়,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য