ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি’র শ্রমিক-কর্মচারীরা, আগামী ১২ মে’র মধ্যে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী আউট সোসিং শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ প্রদান, বকেয়া ৯ মাসের বেতন-ভাতা প্রদান, প্রফিট বোনাস, ফেস বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা প্রদানসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে, ১৩ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ কর্মবিরতী ঘোষণা করার হুশিয়ারী প্রদান করেছে ।

শ্রমিকদের এই ঘোষণার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রামের সমন্বয় কমিটি ।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি গেটের সামনে মানববন্ধন শেষে এই কর্মসূচী ঘোষণা করেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম। এ সময় কমিটির সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান, ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বুলবুল, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামসহ প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবীগুলো হলো-চুক্তি অনুযায়ী সকল শ্রমিকদের নিয়োগ প্রদান, প্রতি বছর শতকরা ৪০ শতাংশ দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ, সকল শ্রমিকদের ক্ষেত্রে গ্রাচুইটি প্রদান, আন্ডারগ্রাউন্ড শ্রমিকদের ৬ ঘন্টা ডিউটি করানোা, ক্ষতিগ্রস্থ ২০ টি গ্রামের বাড়ী-ঘরের দ্রুত স্থায়ী সমাধান, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার প্রত্যেক পরিবার থেকে খনিতে চাকুরী প্রদান, এলাকার নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার প্রমুখ।

আন্দোলনকারীরা শ্রমিকরা বলেন, গত ২০১৭ সালের আগষ্ট মাস থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির এক্সএমসি/সিএমসি’র শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানী উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হলেও কোন কাজ হয়নি। যাতে করে শ্রমিক-কর্মচারীদের পরিবার দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভুগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে ২০টি গ্রামের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। এই কারনে তারা কর্মবিরতীর মত কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছেন।

খনির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রামের সম্বনয় কমিটির আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল বলেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় মানুষ বসবাস করতে পারছেনা, তাদের যাতায়াতের রাস্তা গুলো ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছ্ েএই বিষয়ে খনি কতৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা সত্বেও কোন কর্নপাত করছেনা, এখন আন্দোলনের বিকল্প কোন পথ এলাকাবাসীর নাই।

এই বিষয়ে বড়পুকুরয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ (বিসিএমসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালন (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর ফেটে যাওয়া ঘর-বাড়ীর ক্ষতিপুরন দেয়া হয়েছে এর পরেও কেন তারা আন্দোলন করছে এটি তার বোধদয নয়, এছাড়া আন্দোলনরত শ্রমিকরা কোম্পানীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চিনা কোম্পানী সিএমসির শ্রমিক এই বিষয়টি তারায় দেখবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য